বিশ্বকাপের পর্দা নামার পর গত কয়েকদিনের মধ্যে ৭২টি ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে, টুর্নামেন্টের আর বাকি আছে মাত্র ৩২টি ম্যাচ। এই কয়েকদিনে একের পর এক রেকর্ড ভাঙা হয়েছে, সেইসঙ্গে নতুন প্রায় অচেনা দলের নতুন ইতিহাস তৈরির গল্প, গোল্ডেন বুটের দাবিতে এক যুগান্তকারী প্রতিযোগিতা, আর স্বাভাবিকভাবেই সাথে রয়েছে কিছু বিতর্কও – বলাই বাহুল্য বিশ্বকাপের প্রথমভাগটা ছিল দারুণ উপভোগ্য।
নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে শেষ ৩২ মানে নকআউট পর্ব হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চকর ম্যাচের সম্মিলনে এক অপূর্ব প্রদর্শনী – আর সে কারণেই আমরা মনে করি, শেষ ১৬‘র প্রতিটি ম্যাচই আপনার দেখা উচিত।
চলুন, খেলার সময়সূচি দেখে আসি – সবগুলো খেলার সময়সূচি বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়েছে…
সোমবার, ২৯ জুন
দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম কানাডা (বাংলাদেশ সময় রাত একটা)
দুইটি দেশই প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠেছে; উভয়ের জন্যই এটি একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। কানাডা নিজ দেশের বাইরে খেলছে, তবে লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের অনেক সমর্থক গ্যালারিতে উপস্থিত হয়ে নিজ দলকে সমর্থন যোগাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার, ২৯ জুন
ব্রাজিল বনাম জাপান (রাত ১১টা)
এই ম্যাচটি মূলতঃ তারকাদের সঙ্গে সিস্টেমের লড়াই – সেলেসাঁও, পর্তুগিজ এ শব্দের মানে নির্বাচিত দল বনাম সামুরাই ব্লু, জাপানের জাতীয় ফুটবল দলের আনুষ্ঠানিক ডাকনাম। এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের একটি ক্লাসিক ম্যাচ। গত অক্টোবরে জাপান পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের ৩–২ ব্যবধানে হারিয়েছিল এবং ২০০৬ সালের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের কাছে ৪–১ ব্যবধানে হারার ২০ বছর পর নিশ্চিতভাবেই প্রতিশোধ নিতে চাইবে।
মঙ্গলবার, ৩০ জুন
জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে (রাত আড়াইটা)
নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ২০০২ সালে শেষ ১৬–তে ১–০ ব্যবধানে হারের প্রতিশোধ নিতে এ ম্যাচে মাঠে নামবে প্যারাগুয়ে। জয়ী দল পরের রাউন্ডে ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে পারে।
মঙ্গলবার, ৩০ জুন
নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো (ভোর সাতটা)
এটি এই রাউন্ডের সেরা ম্যাচ হতে পারে। এ টুর্নামেন্ট জয়ের অন্যতম দাবিদার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে চার বছর আগে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো – যারা সম্প্রতি সম্ভাবনাময় ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার আইয়্যুব বুয়াদ্দিকে দলে নিয়েছে।
মঙ্গলবার, ৩০ জুন
আইভরি কোস্ট বনাম নরওয়ে (রাত ১১টা)
অপ্রতিরোধ্য শক্তি বনাম অটল রক্ষণ – এরলিং হালান্ড বনাম এমন একটি আইভরি কোস্ট রক্ষণভাগ যারা ১০টি বাছাই ম্যাচে একটি গোলও হজম করেনি। একমাত্র নিশ্চিত বিষয় – ডালাসে নরওয়ের সমর্থকদের ‘ভাইকিং রোয়িং‘।
বুধবার, ১ জুলাই
ফ্রান্স বনাম সুইডেন (রাত ৩টা)
ফ্রান্সের আক্রমণভাগ নিয়ে সবারই ধারণা আছে, তবে রক্ষণভাগের মূল আকর্ষণ হবে অন্য লড়াই – মানে ভিক্টর গিওকেরেস বনাম তার আর্সেনাল সতীর্থ উইলিয়াম সালিবা। প্রিমিয়ার লিগের এই দুই তারকার মধ্যে কে সেরা তা প্রমাণের ম্যাচ এটি না হলেও মাঠের খেলা সবাই উপভোগ করবেন – তা বলাই যায়।
বুধবার, ১ জুলাই
মেক্সিকো বনাম ইকুয়েডর (ভোর সাতটা)
আজটেকায় মেক্সিকোর ম্যাচ ভোরে উঠেও দেখার মতো। সকালের নাস্তার আগেই ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য শেষ ১৬ প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করা যাবে।
বুধবার, ১ জুলাই
ইংল্যান্ড বনাম ডিআর কঙ্গো (রাত ১২টা)
টমাস টুখেলের দলের কথা বলতে গেলে বলতে হবে এ টুর্নামেন্টে থ্রি লায়ন্সের একমাত্র পারিবার – উপযোগী সময়ের ম্যাচ এটি, মানে এমন একটি সময় যখন পরিবারের ছোটবড় সব সদস্য খেলা দেখতে পারবেন।
হালান্ড
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই
বেলজিয়াম বনাম সেনেগাল (রাত দুইটা)
দুই দলই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেরা খেলাটি উপহার দিয়েছে। বেলজিয়ামের ‘গোল্ডেন জেনারেশন‘-এর কিছু ঝলক এখনও রয়েছে। অন্যদিকে, তৃতীয়–স্থানের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল হিসেবে বিবেচিত হলেও সেনেগাল ফ্রান্স, নরওয়ে ও ইরাকের বিপক্ষে তাদের ম্যাচগুলোতে আটটি গোল করেছে, আর মাঠের বাইরের সমস্যাগুলোও তারা পেছনে ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই
যুক্তরাষ্ট্র বনাম বসনিয়া–হার্জেগোভিনা (ভোর ছয়টা)
বিশ্বকাপের সহ–আয়োজকরা গ্রুপ পর্বের শেষ ‘ডেড রাবার‘ ম্যাচে তুরস্কের কাছে হার সত্ত্বেও – সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরে এই ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রতিপক্ষ বসনিয়া, যারা মার্চে ইতালিকে হারিয়ে যোগ্যতা অর্জন করলেও প্রথম পর্বে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেনি।
শুক্রবার, ৩ জুলাই
স্পেন বনাম অস্ট্রিয়া (রাত একটা)
আঘাত কাটিয়ে ফিট হয়ে ফিরে আসা লামিন ইয়ামাল ও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে সরাসরি খেলার ধাঁচের অস্ট্রিয়া – দুই ভিন্ন স্টাইলের আকর্ষণীয় লড়াই হতে যাচ্ছে এই ম্যাচ।
শুক্রবার, ৩ জুলাই
পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া (ভোর পাঁচটা)
বলতে পারেন, দুই বড় তারকার শেষ নাচের স্বাক্ষী হতে পারে এই ম্যাচ। চার বছর পর আরেকটি বড় টুর্নামেন্টে ৪০ বছর বয়সী লুকা মদরিচ বা ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে দেখা যাবে না নিশ্চিতভাবেই। তাই তাদের একজনের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে ভোরের এই ম্যাচেই।
ভোজিনিয়া
শুক্রবার, ৩ জুলাই
সুইজারল্যান্ড বনাম আলজেরিয়া (সকাল নয়টা)
১৩টি বিশ্বকাপ – এর মধ্যে মাত্র চারবার গ্রুপ পর্বে বিদায়। সুইজারল্যান্ড যেন সবসময়ই থাকে, তবে আটবারের চেষ্টায় এবারই তারা প্রথম নকআউট জয়ের খোঁজে। প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া দলে রয়েছে ২০ বছর বয়সী ইব্রাহিম মাজা – তিনি এতটাই প্রতিভাবান যে তাকে ‘মাজাডোনা‘ বলা হয়।
শনিবার, ৪ জুলাই
অস্ট্রেলিয়া বনাম মিশর (রাত ১২টা)
মোহামেদ সালাহর মিশরের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার অভিযাত্রা একটি আকর্ষণীয় উপকাহিনি হতে পারে এ ম্যাচ – বিশেষ করে তিনি যার রেকর্ড ভাঙতে চাইছেন, সেই হোসাম হাসানই তার কোচ; যিনি শেষ ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের ১২ মিনিটে তাকে তুলে নিয়েছিলেন, যখন সালাহ রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল দূরে ছিলেন।
শনিবার, ৪ জুলাই
আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে (ভোর চারটা)
ছয় গোল করা লিওনেল মেসির বিপক্ষে ৪০ বছর বয়সী কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া – কাগজে–কলমে এই দ্বৈরথকে একতরফা মনে হতে পারে। তবে এই অভিজ্ঞ কিপার ইতোমধ্যেই দুটি ম্যাচে জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখে নিজ দেশে জাতীয় নায়কে পরিণত হয়েছেন।
শনিবার, ৪ জুলাই
কলম্বিয়া বনাম ঘানা (সকাল সাড়ে সাতটা)
বিশ্বকাপের দৃশ্য ও শব্দ সবসময়ই বিশেষ, আর কানসাস সিটির এই ম্যাচটিও তার ব্যতিক্রম হবে না। কলম্বিয়ার ম্যাচগুলো এত দিন দারুণ ছিল – হলুদ পোশাকে দর্শকেরা গ্যালারি মাতাবেন, একটু পরপর সমস্বরে জাতীয় সংগীত গাইবেন – এ তো জানা কথা। তবে, ঘানার সমর্থকরাও সমানতালে জবাব দেবেন – সেটাও এক রকম নিশ্চিত থাকা যায়।