সুরেশ্বর তীররক্ষা বাঁধের ২০ মিটার ধস, ঝুঁকিতে ১৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় সুরেশ্বর তীর রক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় সুরেশ্বর তীর রক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে বাঁধের ৫০ মিটার অংশের ২০ মিটার পানিতে তলিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাঁধের অংশটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

এদিকে ভাঙন আতঙ্কে ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বুধবার দুপুর থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর মাছ ঘাট এলাকার তীররক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। ফাটলের অংশটি ধীরে ধীরে বড় হলে মাছ ঘাটের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে; এমন আশঙ্কায় অনেকে আগেভাগেই গুরুত্বপূর্ণ মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়।

এছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

এদিন সন্ধ্যায় ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ, জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তারা।

নজরুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, বাঁধের এই অংশ ভেঙে যাওয়ায় আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। দ্রুত বাঁধের ভাঙা অংশ সংস্কার করে আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাটি রক্ষা করার দাবি জানাচ্ছি।

ফজল বেপারী নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, বাঁধে ফাটল ধরার পর থেকেই আতঙ্কের মধ্যে আছি। সন্ধ্যায় বড় একটি অংশে নদীতে চলে গেছে। এখন যেভাবে মাটি সরে যাচ্ছে, তাতে যেকোনো সময় বাঁধের বড় অংশ ভেঙে যেতে পারে। এতে আমাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বাঁধটি মেরামত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মিলটন হোসেন বলেন, ফাটল ধরা বাঁধের ৫০ মিটার অংশের মধ্যে ২০ মিটার ধসে পড়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করছি। আগামীকালের মধ্যে পুরোদমে জিওব্যাগ ডাম্পিং কাজ শুরু হবে।

ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে শরীয়তপুর–২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের এক ইঞ্চি মাটিও যেন নদীগর্ভে বিলীন না হয়; সেজন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলমান রয়েছে। সার্ভের মাধ্যমে চিহ্নিত এলাকায় এক সপ্তাহে জরুরি কাজ চালানো গেলে নদীভাঙন থেকে এলাকা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এছাড়া রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান তিনি।

এফ/দীপ্ত সংবাদ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More