রোগী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের ঘটনায় খুলনা জেলার মোংলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে করে ছাগল পরিবহনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনা জিরো পয়েন্ট থেকে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার মো. শরীফুল ছাগলগুলো অ্যাম্বুলেন্সে তোলেন। পরে সেখান থেকে ছাগলগুলো মোংলা আনা হয়। ছাগলগুলো ছিল মোংলার ছাগল ব্যবসায়ী মো. রশিদের। টাকার বিনিময়ে শরীফুল প্রায়ই অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক শরীফুল বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের ঘটনা এটাই প্রথম।’
অ্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, আমি খুলনা গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আসার পথে আমি ফোনে শুনি আমার মামা ছাগল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। রাত হয়ে যাওয়া তিনি গাড়ি পাচ্ছিলেন না। তখন ফোনে আমাকে অনেক রিকোয়েস্ট করায় আমি উনাকে নিয়ে আসি।
তিনি আরও বলেন, উনি আমার মামা হন, মোংলায় উনার খাসির দোকান আছে। সবাই উনাকে চিনে। পরিচিত এবং আমার আপন লোক হওয়ায় আমি উনাকে এনেছি। ভাড়ার জন্য নয়। আমি উনাকে মোংলা থেকে এনেছি এবং খুলনা জির পয়েন্টে নামিয়েছি। এ সময় কোনো টাকা পয়সা লেনদেন হয়নি।
অ্যাম্বুলেন্সে কি ছাগল টানা যায়? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাম্বুলেন্স চালক শরীফুল বলেন, না যায় না। এটা অপরাধ, এ জন্য আমার চাকরি নাই। গতকাল আমাদের অফিসের শাখা প্রধান মো শাহিন আমার গাড়ির চাবি নিয়ে নিয়েছেন। এখন আপাতত আমি ডিউটিতে নাই।
ছাগল ব্যবসায়ী কসাই রশিদ বলেন, ‘আমি চুকনগর থেকে ছাগল কিনে জিরো পয়েন্টে আসি। সেখানে কোনো গাড়ি না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে সিগন্যাল দিয়ে থামিয়ে ৬টি ছাগল অ্যাম্বুলেন্সে করে মোংলা নিয়ে আসি। এ বাবদ ড্রাইভারকে আমি কোনো টাকা দিইনি।’
এদিকে এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স চালক শরীফুলের কাছ থেকে শুক্রবার চাবি নিয়ে নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমী বলেন, ‘তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসএ