কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আগাম শিম চাষ। মৌসুমের আগেই শিম বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ায় বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহ।
পাকুন্দিয়ার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে ৪ হেক্টর জমিতে আগাম শিম চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় খরচ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে সব খরচ বাদ দিয়ে আয় হচ্ছে এক থেকে দেড় লাখ টাকা। মৌসুমের আগেই বাজারে শিম ওঠায় মিলছে ভালো দাম।
চরপাড়া গ্রামের এক সফল কৃষক জানান, তিনি প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে শিম চাষ করেছেন। এতে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও এরই মধ্যে ১ লাখ টাকার শিম বিক্রি করেছেন এবং ক্ষেতে যে শিম রয়েছে তাতে আরও প্রায় ২ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন।
তাছাড়া, এখন নিজেদের জমির ভালো শিম থেকে বীজ সংরক্ষণ করছেন কৃষকেরা। এতে খরচ কমার সাথে সাথে ভালো ফলনও মিলছে।
কৃষকদের এই সাফল্যে সার্বিক সহযোগিতা ও নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর–ই–আলম বলেন, শিম চাষে কৃষকরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন— বিশেষ করে গোড়াপচা রোগ দমনের জন্য কপার অক্সিক্লোরাইড গ্রুপের ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় (চার গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে) গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা দমনে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়েও নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং কৃষকদের ঐকান্তিক পরিশ্রমে পাকুন্দিয়ার চরপাড়া গ্রামের শিম চাষ এখন স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।