সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
UPCOMING

FIXTURES

FIFA 2026 NEXT MATCH
MATCH -- ROUND -
- - -
VS
- - -
KICK OFF:
Processing...
সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই ছেলের দুই অট্টালিকা, অথচ বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই টিনের খুপরিতে

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দুই ছেলের পাকা ভবন থাকা সত্ত্বেও খোলা জায়গায় টিনের তৈরি ছোট্ট একটি খুপরিতে মানবেতর জীবনযাপন কাটাচ্ছেন এক বৃদ্ধা মা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার টিএনটি পাড়ায় দুই ছেলের পাকা ভবন থাকা সত্ত্বেও খোলা জায়গায় টিনের তৈরি ছোট্ট একটি খুপরিতে মানবেতর জীবনযাপন কাটাচ্ছেন এক বৃদ্ধা মা।

সামাজিক মাধ্যমে সেই বৃদ্ধা মায়ের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা নজরে আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ তারিকুল ইসলামের।

সোমবার (১৩ জুলাই) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান ইউএনও। অবশেষে তার হস্তক্ষেপে সেই বৃদ্ধাকে ভবনের ভেতরে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

সরজমিনে দেখা যায়, একটি পাকা ভবনের পাশেই দুই টুকরো টিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি খুপরির ভেতরে জীর্ণ একটি চৌকিতে শুয়ে আছেন বৃদ্ধা। চারপাশে আগাছা, চৌকির একাংশ বৃষ্টিতে ভেজা এবং অসংখ্য মশার কামড়ে তিনি চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।

এ বিষয়ে বৃদ্ধার ছেলে হুমায়ুন মিয়া বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তার মায়ের প্রসাবপায়খানাজনিত সমস্যা রয়েছে। ঘন ঘন টয়লেট ব্যবহারের কারণে ঘর পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসার ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত সময় দিতে না পারায় তিনি আলাদা থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন।

ইউএনও মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বৃদ্ধার জন্য রাখা খাবার হিসেবে একটি থালায় শক্ত করে ভাজা কাঁঠালের বিচি দেখতে পান। ছেলের সঙ্গে কথা বলার সময় নানা অজুহাত দেয়া হলেও পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নেন।

ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃদ্ধার মোট ৪ ছেলে। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকি ৩ ছেলে ও এক নাতির সবারই পাকা দালান রয়েছে। অথচ সেই পরিবারের বৃদ্ধা মায়ের জন্য নিরাপদ একটি কক্ষেরও ব্যবস্থা হয়নি।

তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃদ্ধার জন্য শুকনো খাবার এবং ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়, যাতে তার প্রাথমিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে তাকে ভবনের ভেতরে একটি কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য পরিবারের অন্য সদস্যদেরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইউএনও মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে আরও লিখেন, একজন বাবা কিংবা মা বার্ধক্যে বিলাসবহুল জীবন চান না। তারা শুধু চান সন্তানের ঘরে একটুখানি জায়গা, দুই বেলা দুমুঠো ভাত আর একটু সম্মান। আজ আমরা সন্তান, একদিন আমরাও বৃদ্ধ হব।

এদিকে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে শুধু একটি পরিবারের ঘটনা নয়, বরং সমাজের মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের নির্মম প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন

 

এসএ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More