সঠিক দিকনির্দেশনা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে দারিদ্র্যকে জয় করে নিজেদের ভাগ্য বদলে ফেলা সম্ভব, তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার বাইশরশি গ্রামের আউয়াল ব্যাপারী ও তাহমিনা বেগম দম্পতি। এক সময়ের চরম অভাব–অনটনকে পেছনে ফেলে পাটজাত পণ্য তৈরি করে এখন তারা সফল ও স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা।
চা বিক্রি থেকে পাটশিল্পে পথচলা
একসময় পরিবার চালাতে চায়ের দোকান চালাতেন আউয়াল ব্যাপারী। কিন্তু চায়ের দোকানের সামান্য উপার্জনে স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের নিত্যদিনের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সংসারের এই টানাটানির দিনে তাদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেয় একটি প্রশিক্ষণ।
স্ত্রী তাহমিনা বেগম পাটজাত পণ্য তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। স্ত্রীর এই উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে আউয়াল ব্যাপারী চায়ের দোকান ছেড়ে দিয়ে নিজেও পুরোপুরি যুক্ত হন এই হস্তশিল্পের কাজে।
শুরু থেকে আজকের সফলতা
প্রাথমিকভাবে ছোট পরিসরে পাঁচটি তাঁত কিনে নিজ বাড়িতেই পাটজাত পণ্য তৈরির কাজ শুরু করে এই দম্পতি। তাহমিনা বেগমের নিখুঁত কারুকাজে তৈরি হতে থাকে স্কুল ব্যাগ, লেডিস ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ, সাংবাদিক ব্যাগসহ প্রায় ৮ থেকে ১০ ধরনের দৃষ্টিনন্দন পাটজাত সামগ্রী।
ধীরে ধীরে বাজারে তাদের পণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাদের তৈরিকৃত এসব পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্বাবলম্বী পরিবার ও সুন্দর ভবিষ্যৎ
ষাটোর্ধ্ব আউয়াল ব্যাপারী ও তাহমিনা দম্পতির দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রমের ফল মিলেছে হাতেনাতে। অর্থাভাব দূর হয়ে তারা এখন অর্থনৈতিকভাবে বেশ স্বাবলম্বী। সন্তানদের ভবিষ্যৎও গড়ে তুলেছেন নিজেদের কষ্টার্জিত উপার্জনে— দুই ছেলেকে পাঠিয়েছেন বিদেশে এবং ছোট ছেলে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।
আউয়াল ব্যাপারী অত্যন্ত তৃপ্তির সঙ্গে জানান, একেবারে শূন্য থেকে শুরু করলেও আজ নিজেদের চেষ্টা আর পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে তারা একটি সুন্দর ও শান্তিময় জীবন যাপন করছেন।
ভিডিওটি দেখতে চাইলে নিচের লিংকে ভিজিট করতে পারেন: