ফুটবলে কুসংস্কার বা ‘টোটকা’ নতুন কিছু নয়। পয়া জার্সি, গ্যালারির পয়া আসন কিংবা ম্যাচের আগের পয়া খাবার—কত কিছুই না থাকে! অবশ্য এই মিলগুলোর বেশির ভাগই বাস্তবসম্মত কোনো প্রমাণ দেয় না।
এগুলো মাঠে লামিন ইয়ামালকে একটা নিখুঁত পাস দিতে সাহায্য করবে না, কিংবা লিওনেল মেসিকে জাদুকরী কোনো মুহূর্ত তৈরি করা থেকেও থামাতে পারবে না। এরপরও যুগে যুগে ফুটবলপ্রেমীদের এসব ‘আলামত’ দারুণ বিনোদন জোগাচ্ছে।
বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা–স্পেন। আর এই মহারণের আগে অনেকে অনেক সমীকরণ মেলাতে বসে গেছেন।
দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে স্পেন— এর পক্ষে ৬টি লক্ষণ দেখে নেয়া যাক। এর মধ্যে কিছু মিল কিন্তু একদম খাঁটি ঐতিহাসিক কাকতালীয় ঘটনা। আবার কিছু মিল এতই নিখুঁত যে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। কিন্তু তবুও কেন মানুষ স্পেনের এই ২০২৬ বিশ্বকাপ যাত্রাকে ২০১০ সালের সেই বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানের সাথে মেলাচ্ছে? চলুন জেনে নেই…
১. উদ্বোধনী ম্যাচে একই প্রতিপক্ষ, একই তারিখ!
২০১০ বিশ্বকাপ পর্দা উঠেছিল ১১ জুন, যেখানে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকো। ১৬ বছর পর, ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটিও মাঠে গড়াল সেই ১১ জুন। আর প্রতিপক্ষ? সেই মেক্সিকো আর দক্ষিণ আফ্রিকা! এবার শুধু স্বাগতিক আর সফরকারী দল নিজেদের জায়গা অদলবদল করেছে, কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচের তারিখ আর দুই পরাশক্তি রয়ে গেছে একদম এক।
স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার আগেই ইতিহাস যেন মুচকি হেসে একটা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল।
২. আবারও সেই ‘গ্রুপ এইচ’
২০১০ বিশ্বকাপে স্পেনের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের রূপকথা লেখা হয়েছিল ‘গ্রুপ এইচ’ থেকে। আর ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র যখন হলো, লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল নিজেদের আবিষ্কার করল সেই একই গ্রুপ এইচ!
৩. এবারও ইউরোজয়ী দল হিসেবে আগমন
২০১০ সালে যে স্পেন দল বিশ্বজয় করেছিল, তারা এসেছিল ইউরো ২০০৮–এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে। আর এবার উত্তর আমেরিকায় পা রাখার আগেও স্পেনের গায়ে লেগে ছিল ইউরো ২০২৪ জয়ের তকমা। অর্থাৎ, স্প্যানিশরা এবারও টুর্নামেন্টে এসেছে বর্তমান ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে।
এটিকে কেবল কাকতালীয় ভাবলে ভুল হবে, এটা স্পেনের শক্তিমত্তারই প্রমাণ। আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম কঠিন এক কীর্তি ছোঁয়ার অপেক্ষায় আছে তারা—একই চক্রে ইউরো ও বিশ্বকাপ দুটিরই শিরোপা ঘরে তোলা।
৪. দুই বিশ্বকাপ বছরেই রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবে মরিনিয়োর আগমন!
সবচেয়ে মজার আর অবিশ্বাস্য মিল সম্ভবত এটাই। ২০১০ সালে স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ঠিক আগমুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটের দায়িত্ব নিয়েছিলেন হোসে মরিনিয়ো। ১৬ বছর পর, ঠিক
আরেকটি বিশ্বকাপ বছরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে স্পেশাল ওয়ানের প্রত্যাবর্তন ঘটল! ক্লাবের টানা ব্যর্থতার পর আবারও ত্রাতা হিসেবে মরিনিয়োকে ফিরিয়ে এনেছে রিয়াল। মাঠের ফুটবলে স্পেনের পারফরম্যান্সের সঙ্গে মরিনিয়োর রিয়ালে আসার সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই। তবে আপনি যদি ‘পয়া’ বা শুভ লক্ষণ খোঁজেন, তবে মানতেই হবে—সেই সোনালী গ্রীষ্মের অন্যতম প্রধান এক চরিত্র ঠিক একই মঞ্চে পুনর্জন্ম নিয়েছেন।
৫. শেষ ষোলোতে আবারও পর্তুগাল বধ, সেই ১–০ গোলেই!
সবচেয়ে চোখ কপালে তোলার মতো কাকতালীয় ঘটনা যদি একটা বেছে নিতে হয়, তবে সেটি এটাই। ২০১০ বিশ্বকাপে এই পর্তুগালকেই শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ১–০ গোলে বিদায় করেছিল স্পেন, ডেভিড ভিয়ার সেই অবিস্মরণীয় গোলে। ঠিক ১৬ বছর পর, ২০২৬ সালেও সেই শেষ ষোলোর মঞ্চেই আইবেরিয়ান প্রতিবেশীদের মুখোমুখি ‘লা রোহারা’। আর ম্যাচের ফলাফল? আবারও সেই ১–০ গোলের জয়!
৬. এবারও বার্সেলোনা–নির্ভর এক ‘স্পেন দল’
২০১০ সালের সেই বিশ্বজয়ী স্পেন দলে বার্সেলোনার খেলোয়াড় ছিলেন ৮জন—যদি টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই কাম্প ন্যু–তে চুক্তি সেরে ফেলা ডেভিড ভিয়াকেও সেই তালিকায় ধরা হয়। আর এবারের স্কোয়াডেও আছেন বার্সার ঠিক ৮ জন ফুটবলার: হোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া, পাউ কুবারসি, গাভি, পেদ্রি, দানি ওলমো, ফেরান তোরেস এবং লামিন ইয়ামাল। স্বাভাবিকভাবেই বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ এই কাকতালীয় ঘটনাটি বেশ জোরেশোরেই প্রচার করছে।
তথ্যসূত্র: টি স্পোর্টস
এসএ