দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় দ্বিতীয় দফায় এমপি গাজী নজরুলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে দ্বিতীয় দফায় আরও সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপোন হোসেন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টম্বর) এমপি গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের পার্শ্ববর্তী ন্যাম ভবনে এমপি নজরুলের ফ্ল্যাট থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর রাতে এমপি নজরুল ও তার স্ত্রী মাকসুদাকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়।
৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকসুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকসুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইলে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ।
লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপর তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান।