বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, বিদ্যমান সদস্যদের তথ্য যাচাই–বাছাই এবং সদস্যভিত্তিক তথ্য হালনাগাদের কার্যক্রম জোরদার করতে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাণিজ্য সংগঠন–২–এর নির্দেশনার আলোকে অস্থায়ী প্রশাসকের মাধ্যমে এই কমিটি মনোনীত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কমিটির প্রধান কার্যপরিধি হবে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তিকরণ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা এবং বিদ্যমান সদস্যদের তথ্য যাচাই–বাছাইয়ের মাধ্যমে একটি হালনাগাদ ও নির্ভুল সদস্যভিত্তি তৈরিতে প্রশাসককে সহায়তা করা।
বেসিস প্রশাসক ড. খাদিজা নাজনীন–কে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন— ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জুয়েল, চেয়ারম্যান, ট্রাস্ট–আইটি (বিডি) লিমিটেড; ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ ইবনে নূরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সলিউশন ওয়ার্ল্ড লিমিটেড; মো. আহসান হাবিব, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এজিএস কোয়ালিটি অ্যাকশন লিমিটেড; ফেরদৌস আলম, প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, এটোভা টেকনোলজি; মো. ফুয়াদ হাসান, পরিচালক, রেড স্প্যারো লিমিটেড; মো. রাশেদ উল হক সরকার, সিইও, লেমিসে লিমিটেড; এবং মোহাম্মদ তাপিত হাসান চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গ্লোবাল আইটি অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট লিমিটেড।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কমিটির কার্যপরিধি মূলত সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং সদস্যদের তথ্য যাচাই ও হালনাগাদকরণ কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অন্য কোনো বিষয়ে কমিটির স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার থাকবে না।
এছাড়া, কমিটির কোনো সদস্য যদি বেসিসের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করতে চান, তাহলে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দিনই তাকে সহায়ক কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এই বিধানকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ডিজিটাল উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার নাজমীনের স্বাক্ষরে জারি করা নির্দেশনায় সদস্য তালিকা হালনাগাদ, তথ্য যাচাই এবং একটি স্বচ্ছ সদস্যভিত্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই নির্দেশনার পূর্ণাঙ্গ নথি আমি স্বাধীনভাবে অনলাইনে যাচাই করতে পারিনি; তাই প্রকাশের আগে মূল চিঠির ভাষার সঙ্গে তারিখ, পদবি ও নির্দেশনার বিষয়বস্তু মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
বেসিসের সদস্যপদ ও ভোটার তালিকা নিয়ে বিগত সময়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের অভিযোগ, অতীতের রাজনৈতিক প্রভাব, কিছু প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ এবং বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানের ভোটাধিকার নিয়ে সদস্যদের একটি অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল। একই সঙ্গে কিছু পক্ষের বিরুদ্ধে সাধারণ সদস্যদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ সীমিত করার অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভিন্ন বক্তব্য থাকতে পারে।
সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান বেসিসে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে, আবার কার্যক্রম চালু থাকা কিছু প্রতিষ্ঠানের ভোটার হওয়ার সুযোগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সমর্থকেরা সদস্যপদ যাচাই ও সাংবিধানিক বিধান অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে থাকেন। নতুন সহায়ক কমিটির কার্যক্রমে এসব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে যাচাইযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে সদস্য তালিকা প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বেসিসের সাধারণ সদস্যদের একটি অংশ আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন কমিটি নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবে। বিশেষ করে সক্রিয় ও বৈধ সদস্যদের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত এবং ভোটার তালিকা নিয়ে ভবিষ্যৎ বিতর্ক কমাতে কমিটির কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেসিসের সদস্যভিত্তিক তথ্য আরও নির্ভুল হবে এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে সদস্যদের আস্থা বাড়বে।