মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬
মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬

ফজলুর রহমানের বক্তব্যে ‘রাজাকার’ প্রসঙ্গ, সংসদে উত্তেজনা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
ফজলুর রহমানের বক্তব্যে ‘রাজাকার’ প্রসঙ্গ, সংসদে উত্তেজনা

জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। জাতীয় সংসদে তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না, আর শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেয়ার সময় এ বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ বাংলায় শুধু বেলিচামেলি আর জুঁই ফুল ফোটে না, রক্ত গোলাপ ও রক্ত জবাও ফোটে। এ দেশে শুধু কোকিল ডাকে না, এ দেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও থাকে। যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে, মুক্তিযোদ্ধা জিতবে, রাজাকার কোনোদিন এই দেশে জয়লাভ করতে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বক্তব্যের পরে তারা বলবে আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই! বিরোধী দলে যারা বসে আছেন, অনেকেই আমাকে “ফজা পাগলা” বলে ডাকে, তারা নাকি সভ্য।’

বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতা বলেছেন উনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক, শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজন জামায়াত করতে পারে না। আর শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ।’

এদিকে নিজের বক্তব্য শুরু করার আগে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এমপি ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি, হাওর অঞ্চলকে দয়া করে এবার বাঁচান। হাওর অঞ্চলকে সঠিকভাবে বাঁচাতে হলে ৩৫টি জেলা নিয়ে একটি হাওর মন্ত্রণালয় করতে হবে।

সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পর বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে কথা বলার ফ্লোর দেন স্পিকার।

আরও পড়ুন: ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অব্যাহতি পেলেন ফজলুর রহমান

এ সময় তিনি বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য (ফজলুর রহমান) বয়সে আমার বড়। তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের সবকিছুই বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের উপরে হাতুড়িপেটার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি।

বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আঘাত করেছেন। তিনি বলেছেন—যে আমি বলে থাকি, আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। তিনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন—কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা কোনো শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারেন না। তাহলে ওনাকে জিজ্ঞেস করে করা (জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করা) লাগবে? এটি আমার নাগরিক অধিকার।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি কোন দল করব, আমি কোন আদর্শের রাজনীতি করব; এর উপর হস্তক্ষেপ করার নূন্যতম অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধান কাউকে দেয়নি। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি (পরিচয়) নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এটা তিনি গুরুতর অপরাধ করেছেন। আবার তিনি আমার আদর্শ বাছাইয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বাড়তি অপরাধ করেছেন। আমি অনুরোধ করব মাননীয় স্পিকার, তার বক্তব্যের অসংশোধীয় অংশ বাদ দেয়া হোক।’

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More