পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ডাহুক নদী থেকে ফের অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে আবু তাহের নামের এক পাথর ও বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আবারও পাথর–বালু উত্তোলনে জড়িয়েছেন তিনি। উত্তোলন করা পাথর পরিবহনের জন্য কাজী ফার্মসের জমিতে জোর করে প্রবেশ করেছে সংঘবদ্ধ চক্রটি।
কাজী ফার্মস কর্তৃপক্ষ বলছে, স্থানীয়ভাবে ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত আবু তাহেরের নেতৃেত্ব একটি সংঘবদ্ধ চক্র গত বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশীয় অস্ত্র–স্বস্ত্র নিয়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাটাপাড়া মৌজায় কাজী ফার্মসের সীমানা পিলার ভেঙে ফেলে এবং সেখান দিয়ে অবৈধভাবে তোলা পাথর ও বালু বহন করছে তারা।
উল্লেখ্য, পুলিশের দায়ের করা একটি মালায় আবু তাহেরকে গত ২২ জুন জেল হাজতে পাঠিয়েছিল আদালত। অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ডাহুক নদী থেকে প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ পাথর ও বালু উত্তোলন করার অভিযোগে পুলিশ এ মামলা করে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভাঙচুরের অভিযোগে কাজী ফার্মসের করা চারটি মামলা চলমান রয়েছে।
সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আবারও অবৈধভাবে ডাহুক নদী থেকে পাথর ও বালু তোলা শুরু করেছে তাহের ও তার দলবল। এ ঘটনায় একদিকে যেমন দেশের অন্যতম বৃহৎ পোল্ট্রি প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মসের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের কারণে ফার্মসের পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে জানাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা তাহেরের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নদীর তলদেশ থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেখিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ডাহুক নদী থেকে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন বিভিন্ন মামলার আসামি তাহের।
পরিবেশবিদরা বলছেন, একদিকে নির্বিচারে পাথর ও বালু উত্তোলনের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে ডাহুক নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়েছে নদীপাড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি।