নারিকেলের ছোবড়া থেকে হচ্ছে ব্রাশ ও পাপোশ

Sakib Zaman Potraitসাকিব জামান

নারিকেলের ফেলে দেওয়া ছোবড়াকে কাজে লাগিয়ে বদলে গেছে পিরোজপুরের নেসারাবাদ উপজেলার অনেক মানুষের জীবন। এখানকার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে নানা ধরনের ব্রাশ ও পাপোশ তৈরি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

প্রায় ৭০ বছর ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পটি এখনো পরম যত্নে টিকিয়ে রেখেছেন স্থানীয় কারিগররা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব হস্তশিল্প এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাদৃত হচ্ছে।

উপজেলার আলকিরহাট ও সুটিয়াকাঠি গ্রামে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে এক দারুণ কর্মব্যস্ততা। নারী–পুরুষ সবাই যেন পণ্যের কারুশিল্পে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা নারিকেলের ছোবড়া প্রায় এক মাস পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়।

এরপর বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুরু হয় পাপোশ তৈরির কাজ। অন্যদিকে, ধুলা পরিষ্কার করা কিংবা গাড়ি ধোয়ার ব্রাশ তৈরি করতে প্রায় ১০টিরও বেশি ধাপ পার হতে হয়। বিভিন্ন সাইজের চাহিদা অনুযায়ী নিখুঁতভাবে এসব পণ্য তৈরি করেন দক্ষ কারিগররা।

এ শিল্পের সাথে জড়িত কারিগররা জানান, মূলত পাইকারি দরেই এসব পণ্য বিক্রি করা হয়। সীমিত লাভে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে এভাবেই দিন কাটাচ্ছেন তারা। একজন কারিগর প্রতিদিন এসব পণ্য তৈরি করে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন, যা দিয়ে তাদের সংসারের চাকা সচল থাকে।

স্থানীয় এই সম্ভাবনাময় কুটির শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিসিক পিরোজপুরের উপ–ব্যবস্থাপক এইচ এম ফাইজুর রহমান জানান, নারকেলের ছোবড়া দিয়ে পাপোশ ও ব্রাশ তৈরির সাথে যুক্ত উদ্যোক্তাদের দ্রুত শিল্প নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি বিসিকের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এই খাতকে আরও বেগবান করা হবে।

গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে দারুণ ভূমিকা রাখা এই শিল্পটি যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More