পাসপোর্ট হারালে নতুন নিয়ম, জরিমানা গুণতে হবে ১০ হাজার টাকা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার বা এরপর প্রতিবার একই ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন৪ শাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্টের পুনঃইস্যু প্রক্রিয়া, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনঃইস্যুর জন্য আবেদন করছেন। পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ভ্রমণ নথি হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হারানো, চুরি বা বিনষ্ট পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নতুন করে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানার পর যত দ্রুত সম্ভব বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় তা রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডিতে উল্লেখ করা তথ্যের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর অথবা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে।

তবে কোনো কারণে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে থানার যাচাই প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে জিডির কপি সংযুক্ত করেই পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর জন্য আবেদন করা যাবে। এরপর বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, জিডি যাচাইয়ের সময় যদি দেখা যায় যে ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে পাসপোর্টটি ফেরত পাওয়া বা উদ্ধার করা সম্ভব নয়, তাহলে আগের পাসপোর্ট ‘রিভোক’ করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।

এ ছাড়া হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ইন্টারপোলকে অবহিত করাসহ প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদেশে অবস্থানকালে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন প্রয়োজনীয় ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং এসংক্রান্ত তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।

নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হারানো, চুরি বা বিনষ্ট পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হলে নতুন পাসপোর্টের ডেটাপেজে স্পষ্টভাবে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ উল্লেখ থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের অবস্থা ‘Lost/Revoked’ হিসেবে হালনাগাদ করতে হবে।

হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। অর্থাৎ আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবার নাম ও মায়ের নাম পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ তথ্য সংশোধনের কোনো বিষয় থাকলে তা পৃথকভাবে বিবেচনা করা যাবে।

আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে সেটি সমর্পণের ভিত্তিতে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেলে এবং আবেদনকারীকে শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে সেটিকে হারানো পাসপোর্টের মতো বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

এদিকে, কোনো পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করার পর সেটি ‘রিভোক’ করা হলে পরবর্তী সময়ে পাসপোর্টটি পাওয়া গেলেও সেটি পুনরায় সক্রিয় করা যাবে না। এমনকি ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণও করা যাবে না। পাসপোর্টটি পরে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় এবং নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানাতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকেও অবহিত করতে হবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাসপোর্টের ডাটাবেজ এবং ইমিগ্রেশন অ্যালার্টে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করবে। এর মাধ্যমে রিপোর্ট করা হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট পরবর্তীতে কেউ ব্যবহার করার চেষ্টা করলে তা শনাক্ত করার সুযোগ থাকবে।

পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু সংক্রান্ত আগের বিভিন্ন পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনা সমন্বয় এবং সংশোধন করে নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরিপত্র জারির তারিখ থেকেই নতুন নির্দেশনাগুলো কার্যকর হবে।

ফলে এখন থেকে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত অনলাইনে রিপোর্ট করা এবং থানায় জিডি করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দ্বিতীয়বার বা তার পরবর্তী সময়ে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More