
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশির পরিচয় জানাল কনস্যুলেট

সৌদি আরবে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
গতকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে মহাসড়কে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা জানান, নিহত বাংলাদেশিরা মদিনা থেকে একটি গাড়িতে করে জেদ্দার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুসহ সাতজন প্রাণ হারান।
নিহতদের সবাই আল আবীর কোল্ড স্টোর ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়।
দুর্ঘটনায় নিহতরা মোট তিনটি পরিবারের সদস্য। এরমধ্যে জিয়াউর রহমানের পরিবারের চারজন, আলম শাহের পরিবারের দুজন এবং ইলিয়াসের পরিবারের একজন নিহত হয়েছেন।
জিয়াউর রহমানের পরিবারের চারজন হলেন– জিয়াউর রহমান, তার মেয়ে বুশরা এবং দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান। তাদের মরদেহ আল–হিমনা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
এ পরিবারের আহত দুজন হলেন– জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও মেয়ে ইউসরা। শাকিরা খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে এবং ইউসরা জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আলম শাহের পরিবারের দুজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন–তার স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়া। তাদের মরদেহ যথাক্রমে আল–হিমনা ও খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
এ পরিবারের আহত দুজনের মধ্যে– আলম শাহ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তার ছেলে ফায়সাল ইস্ট জেদ্দা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ইলিয়াসের পরিবারের একজন নিহত হয়েছেন। কয়েকদিন আগে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে আসা তার স্ত্রী আফসানা বিবি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তার মরদেহ খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহত ইলিয়াস প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
এ ছাড়া, আহত আরেক বাংলাদেশি গফুর আলম খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি চালাচ্ছিলেন একজন পাকিস্তানি নাগরিক। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। ট্রাফিক অফিসের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উল্টে যায়। তবে চালকের দাবি, টায়ার ফেটে যাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।








