ইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন– কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চিৎকার ও শোরগোল শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় বাবুলের ২০ বছর বয়সী ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহত বাবুলের ভাতিজা আফনান হোসেন নাইম জানান, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা এ হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। তিনি বলেন, চাচা দেশে এলে সবার সঙ্গে মিশতেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতেন। এমন ঘটনায় আমরা সবাই স্তব্ধ। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও বাবুলের সঙ্গে গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ছিল নিবিড়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, ঘটনার পরপরই ইতালিয়ান পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে, তা জানতে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে একটি বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হারানোর ঘটনা শুধু স্বজনদের নয়, পুরো প্রবাসী সমাজকে নাড়া দিয়েছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
এদিকে ২০২৫ সালের ২ জুলাই রাতে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তার বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের রেখে যাওয়া উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে পরিবারের কাছে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা–পয়সা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না হলে ছেলে ও নাতিকে হত্যার পাশাপাশি পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকিও দেয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছিলেন নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম। ৩ জুলাই পরিবারকে হত্যার হুমকি ও ডাকাতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।