শনিবার, মে ১৬, ২০২৬
শনিবার, মে ১৬, ২০২৬

রাজকীয় গড়নে আলোচনায় ‘দিনাজপুরের সম্রাট’

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

এবার দিনাজপুরের কুরবানীর পশুর মধ্যে আকর্ষণ হচ্ছে দিনাজপুরের সম্রাট, খামারি শখ করে নাম রেখেছেন সম্রাট। এবার কুরবানীর পশুর হাটে আলোচনায় এসেছে সম্রাটের নাম। এটিই হচ্ছে দিনাজপুরের সর্বোচ্চ পশু বলে দাবি করচ্ছেন খামারী আব্দুর রাজ্জাক।

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের মধ্যদুর্গাপুর গ্রামে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশালাকৃতির একটি ষাঁড়—‘দিনাজপুরের সম্রাট’। প্রায় ৩০ মণ ওজনের এই রাজকীয় গড়নের ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সম্রাট। এর দাম হাঁকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।

ব্যবসায়ী ও খামারি আব্দুর রাজ্জাকের খামারে বেড়ে ওঠা ধূসর রঙের এই ষাঁড়টি শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের। শান্ত স্বভাব আর বিশাল আকৃতির কারণে স্থানীয়দের কাছে এটি এখন অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

খামার সূত্রে জানা গেছে, ‘দিনাজপুরের সম্রাট’ এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট। ওজন প্রায় ১ হাজার ১২৫ কেজি বা প্রায় ৩০ মণ। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৌতূহলী মানুষ ভিড় করছেন রাজ্জাকের বাড়িতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে এসে সম্রাটকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।

প্রতিবেশী আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা অনেক বড় গরু দেখেছি, কিন্তু সম্রাটের মতো এত বিশাল আর শান্ত গরু এই এলাকায় আগে দেখিনি। প্রতিদিন মানুষ শুধু গরুটি দেখতে আসে। এখন পুরো গ্রামেই উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আরেক প্রতিবেশী গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, “ছোটবড় সবাই সম্রাটকে দেখতে আসে। বাচ্চারা খুব আনন্দ পায়। এত যত্ন করে গরু পালন করা সত্যিই প্রশংসার বিষয়। গরুটাকে দেখলেই বোঝা যায় কত আদর দিয়ে বড় করা হয়েছে।

খামার মালিক আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রায় দুই বছর আগে শাহীওয়াল জাতের একটি গাভীর ঘরে জন্ম নেয় সম্রাট। জন্মের পর থেকেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে তাকে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে খড়, ঘাস, ছোলা, মসুর ডাল, ভুষি, ভুট্টার আটা, খৈল, খুদের ভাত, ধানের গুঁড়া ও চিটাগুড়। এছাড়াও মৌসুমি ফল হিসেবে কাঁচাকলা, গাজর, আপেল, কাঁঠাল ও পাতাকপিও খাওয়ানো হয়।

তিনি বলেন, “সম্রাটকে নিজের সন্তানের মতো করেই বড় করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করিনি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালনপালন করেছি। আশা করছি ভালো দাম পাব।

আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই মাহাবুব জানান, সম্রাটকে পরিবারের সদস্যের মতোই যত্ন করা হয়। নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় বলেও জানান তিনি। সম্রাটের থাকার জায়গায় সার্বক্ষণিক ফ্যান চালু রাখা হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা হয়। দিনে তিন থেকে চারবার গোসলও করানো হয় তাকে।

তিনি আরও বলেন, “সম্রাট এখন শুধু আমাদের পরিবারের নয়, পুরো এলাকার গর্বে পরিণত হয়েছে।

বিশাল আকৃতির কারণে সম্রাটকে হাটে নেওয়া কঠিন হবে উল্লেখ করে আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাড়ি থেকেই গরুটি বিক্রি করতে চান তিনি। তার প্রত্যাশা, ১২ লাখ টাকায় বিক্রি হবে ‘দিনাজপুরের সম্রাট’। তবে ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দাম কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এবার কোরবানির জন্য জেলায় প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরু, ২৪৮টি মহিষ, ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি ছাগল, ১৩ হাজার ৭২৯টি ভেড়া এবং ১১টি দুম্বা। জেলার ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারি ও পরিবার পশু লালনপালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম বলেন, “জেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিদের প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু কিনতে পারেন।

সুলতান মাহমুদ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More