শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর দেহ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে এবং মাংস ফ্রিজে লুকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন এক গৃহবধূ।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে শরীয়তপুর পৌরসভার পালং এলাকা থেকে আসমা আক্তার নামের ওই নারীকে আটক করে পালং মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার মালেশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের সঙ্গে মোবাইলফোনে পরিচয়ে আট বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় পিরোজপুর জেলার আসমা আক্তার। পারিবারিক কলহের জেরে গত মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আসমা আক্তার লোহার টুকরা দিয়ে স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে আসমা নৃশংসভাবে দেহ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। হাত–পা একটি বস্তায় ভরে নড়িয়ার নদীর পাড়ে এবং মাথাসহ শরীরের অন্যান্য অংশ সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর পাড়ে ফেলে রাখা হয়। এছাড়া দেহের কিছু অংশ একটি বস্তায় ভরে পালং উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়ির ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা ৯৯৯–এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমাকে আটক করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধার করে।
নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে এসে আলাদা বাসায় থাকতেন। আমরা খবর পেয়ে এসে দেখি, সত্যিই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখে ওই নারী। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সালাউদ্দিন রুপম