
ভয়াবহ যুদ্ধের সম্মুখীন পুরোবিশ্ব, খাবার-পানি মজুতের নির্দেশ

চলতি বছরে পুরোবিশ্ব অস্থির সময় পার করছে। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক প্রভাব, ভূ–রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, সব মিলিয়ে এক গভীর সংকটের মুখোমুখি বিশ্ববাসী। কিন্তু এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও ইউরোপীয় দেশগুলোর জরুরি অবস্থার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণটা কি?
সম্প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলো বেসামরিক প্রতিরক্ষা জোরদার করার পদক্ষেপ নিচ্ছে। যুক্তরাজ্য থেকে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স থেকে ভারত, প্রায় সবখানেই অন্তত কয়েক দিনের জন্য খাবার, পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখতে বলা হচ্ছে। কোথাও আবার বাড়ানো হচ্ছে আশ্রয়কেন্দ্রের সক্ষমতা। বিশ্ব কি তবে সত্যি সত্যিই মহা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে?
গত ২ নভেম্বর দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা‘ নামক একটি উদ্যোগে নিয়েছে। যার লক্ষ্য হলো, দেশের প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বাইরের কোনো সহায়তা ছাড়াই টানা ৯০ দিন সচল রাখা সম্ভব হবে। এ জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির স্বনির্ভরতা, সরবরাহব্যবস্থা, জরুরি মজুত এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা আছে। পাশাপাশি সাধারন নাগরিকদের কয়েক দিনের খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুতের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সরকারের নির্দেশনা, যেকোন দূর্যোগে স্বাভাবিক সেবা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষ যেন অন্তত তিন দিন নিজেদের দায়িত্বে চলতে পারে সে রকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। জরুরি সেবার ওপর চাপ কমাতে এবং সাইবার হামলা বা অন্তর্ঘাতের মতো আধুনিক হুমকি মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাপানে ভূমিকম্পসহ যেকোন দুর্যোগের তিন থেকে সাত দিনের পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জরুরি সামগ্রী মজুতের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জার্মানিতে পরিবারগুলোকে অন্তত ১০ দিনের খাবার মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে স্থানীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য আলাদা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপীয় দেশগুলোর নিরাপত্তাবোধ পাল্টে দিয়েছে পুরোপুরি। ফিনল্যান্ড, সুইডেন, পোল্যান্ড ও বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো ২০২২ সালের পর থেকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বহুগুণ শক্তিশালী করেছে। দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করেছে। এমনকি কিছু দেশের খাদ্যভাণ্ডারে পর্যাপ্ত শস্য সংরক্ষিত রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি‘ নামক পদক্ষেপে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সাইবার আক্রমণ কিংবা জলবায়ুজনিত দুর্যোগ—সব ক্ষেত্রে সরকার ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের এসব প্রস্তুতি বাস্তব হলেও এর অর্থ এই নয় যে, কালই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের প্রস্তুতির মূল কারণ ভিন্ন ভিন্ন। দেশগুলোর সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এ প্রস্তুতি মূলত সামরিক সংঘাত, সাইবার হামলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নাগরিকরা যেন প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে নিতে পারেন।
আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা বদলে যাচ্ছে। যুদ্ধ বা দুর্যোগ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে সম্ভাব্য সংকটের আগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব। কাজেই এ প্রস্তুতি কোনো সমন্বিত যুদ্ধের পূর্বাভাস নয়। এতে বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয় এবং দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।
ইশরাত সুমা/এজে/দীপ্ত সংবাদ








