বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬
বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬

বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে জনজীবন

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মোংলা আবহাওয়া অফিস। টানা বৃষ্টির ফলে বাগেরহাট শহরের রাস্তাঘাট, অলিগলি ও বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় কর্মজীবী মানুষদের দৈনন্দিন কাজে বের হতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বাগেরহাট পৌরসভার বাসিন্দা আল আমিন খান সুমন বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা বৃষ্টিতে শহরের কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজার হাঁটু পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাধ্য হয়ে নোংরা পানিতে দাঁড়িয়ে বাজার করতে হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাট পৌরসভা ভবনের সামনের সড়কটিও হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে, এতে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

ইজিবাইক চালক রুস্তম ফরাজি বলেন, বৃষ্টি হলেই পৌরসভার সামনের রাস্তাটি হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ইজিবাইকের মোটর নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ভাঙা রাস্তার কারণে ইজিবাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা মেরামতে আয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় করতে হয়।

এদিকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে বোরো ধান ও মৌসুমি সবজি চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জমিতে পানি জমে থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার অধিকাংশ বোরো চাষি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এছাড়া পানি জমে থাকায় মৌসুমি সবজি চাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

অপরদিকে ভারী বৃষ্টিপাতে মোংলা বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হলেও স্বাভাবিক রয়েছে বন্দরের কার্যক্রম।

মোংলা বন্দরের উপব্যবস্থাপক মো. মাকরুজ্জামান বলেন, জেলা জুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও মোংলা বন্দরের পণ্য ওঠানামাসহ সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে বন্দরে কয়লা, সারসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ৭টি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে এবং এসব জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজ চলমান রয়েছে।

এছাড়া বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বৃষ্টিপাতে জেলার সব নদনদীর পানির স্তর কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More