নরওয়ের বিপক্ষে ২–১ গোলে হারের পরপরই জাতীয় দল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র ও ফুলব্যাক দানিলো। তাদের পাশাপাশি ব্রাজিলের আরও কয়েজন নামী তারকা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন।
নেইমারের প্রথম বিশ্বকাপ ছিল ২০১৪ সালে দেশের মাটিতে। কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গুরুতর চোট পাওয়ায় তিনি সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ৭–১ গোলের পরাজয়ের ম্যাচে খেলতে পারেননি। এরপর ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপেও ইনজুরি কাটিয়ে খেলতে হয়েছিল তাকে।
২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ব্রাজিলকে জয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরায় প্রতিপক্ষ, আর টাইব্রেকারে বিদায় নিতে হয় তিতের দলকে। সেই সময় নেইমার নিজেই বলেছিলেন, সেটিই হতে পারে তার বিশ্বকাপের ‘লাস্ট ড্যান্স‘।
অন্যদিকে, দানিলো টানা তিনটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি শুরুতে একাদশে ছিলেন না; তবে ওয়েসলির চোটের পর সুযোগ পেয়ে আবারও নিয়মিত একাদশে ফেরেন।
এ ছাড়া বয়সের কারণে আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারেরও ২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। উল্লেখ্য, ২০২২ এর আসরে ৩৯ বছর বয়সে দানি আলভেস ছিলেন ব্রাজিলের ইতিহাসে বিশ্বকাপে ডাক পাওয়া সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার।
যারা ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন:
অ্যালিসন বেকার (বিশ্বকাপ: ২০১৮, ২০২২, ২০২৬): এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটি খেলে ফেললেন। আগামী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স হবে ৩৭ বছর। তার চেয়ে বেশি বয়সে চলতি বিশ্বকাপেই খেলেছেন মানুয়েল ন্যুয়ের, গুইলের্মে ওচোয়ারা। কিন্তু ব্রাজিলিয়ানদের ক্যারিয়ার সাধারণত এতো দীর্ঘ হয় না। তাই বলা চলে বিশ্বকাপে আর কখনো দেখা যাবে না লিভারপুলের এই কিংবদন্তিকে।
ওয়েভারটন (বিশ্বকাপ: ২০২২, ২০২৬): চলতি বিশ্বকাপে তিনি ব্রাজিলের তৃতীয় গোলরক্ষক ছিলেন। আগামী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স হবে ৪২ বছর। ততদিন পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাওয়াই বেশ কঠিন।
মার্কুনিয়োস (বিশ্বকাপ: ২০১৮, ২০২২, ২০২৬): পিএসজির হয়ে টানা দুটি দারুণ মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিলেন এই সেন্টারব্যাক। কিন্তু ক্লাবের সাফল্য জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখাতে পারলেন কই! তিন মহাদেশ মিলিয়ে অনুষ্ঠিতব্য আগামী বিশ্বকাপে তার বয়স দাঁড়াবে ৩৬ বছর। অর্থাৎ পিএসজির অধিনায়ককে আগামী বিশ্বকাপে দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
দানিলো (বিশ্বকাপ: ২০১৮, ২০২২, ২০২৬): ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা এই ফুলব্যাক সম্ভবত জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটাও খেলে ফেলেছেন। আগামী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স দাঁড়াবে ৩৮ বছর।
অ্যালেক্স সান্দ্রো (বিশ্বকাপ: ২০২২, ২০২৬): আগামী বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সে সান্দ্রোর অংশ গ্রহণের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোটায়।
ক্যাসেমিরো: (বিশ্বকাপ: ২০১৮, ২০২২, ২০২৬): চলতি বিশ্বকাপে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি ক্যাসেমিরো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের কাছে কোচ কার্লো আনচেলত্তির অনেক প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ হয়নি। মাঠে ক্যাসেমিরোর শ্লথ গতি ভুগিয়েছে ব্রাজিলকে। স্বাভাবিকভাবেই ৪ বছর পর ৩৮ বছর বয়সে আগামী বিশ্বকাপে তার খেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
ফ্যাবিনিয়ো: ক্যাসেমিরোর মতো লিভারপুলের এই সাবেক মিডফিল্ডারেরও এটি ছিল সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ। আগামী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স দাঁড়াবে ৩৬ বছর।