
থ্রিডি ম্যাপে ট্রেনের লাইভ অবস্থান দেখাচ্ছে ‘ট্রেন কোথায়’, যেভাবে দেখবেন

ট্রেন এখন কোথায় আছে, কত মিনিট দেরিতে চলছে এবং স্টেশনে কখন পৌঁছাবে, এসব তথ্য বিনামূল্যে দিচ্ছে বাংলাদেশি অ্যাপ ‘ট্রেন কোথায়‘।
অ্যাপটির প্রতিষ্ঠাতা আবু আনোয়ারের দাবি, চালুর পাঁচ মাসের মধ্যে এটি ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি ডাউনলোড হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস ও ওয়েবসাইটে Trainkothai.com সেবাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। এজন্য কোনো অ্যাকাউন্ট বা সাইন আপের প্রয়োজন নেই।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০টি ট্রেন চলাচল করে। বছরে এসব ট্রেনে যাতায়াত করেন ৮–৯ কোটি যাত্রী। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় নিত্যদিনের ঘটনা। ট্রেনের অবস্থান কোথায়, সেটি জানার সহজলভ্য ব্যবস্থা ছিলো না। ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ের এসএমএস সেবা। মেসেজে TR লিখে স্পেস দিয়ে ট্রেনের নম্বর বা নাম লিখে ১৬৩১৮ নম্বরে পাঠালে ট্রেনের অবস্থান, পরবর্তী স্টেশন ও বিলম্বের তথ্য পাওয়া যায়। ইন্টারনেট ছাড়াই এ সেবা মেলে।
আবু আনোয়ারের হিসাবে, প্রতিটি মেসেজের খরচ প্রায় ৫ টাকা। অ্যাপটি তৈরির পেছনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলাম। পুরো পথে বুঝতেই পারছিলাম না কোথায় আছি, কত দেরি হচ্ছে। যতবার জানতে চেয়েছি, টাকা খরচ করে এসএমএস পাঠাতে হয়েছে। শেষে হিসাব করে দেখি, চানাচুরের চেয়ে এসএমএসেই বেশি গেছে।
থ্রিডি ম্যাপে লাইভ ট্র্যাকিং:
প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে TrainKothai অ্যাপ ইনস্টল করে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়ে চালু করুন। হোমপেজে ট্রেনের নাম, নম্বর বা স্টেশনের নাম লিখে সার্চ করলেই বিস্তারিত তথ্য চলে আসবে। পেজের নিচে থাকা ‘ম্যাপ’ অপশনে ক্লিক করে থ্রিডি মানচিত্রে ট্রেনের অবস্থান দেখা যাবে।
যেসব সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে:
লাইভ লোকেশন: মানচিত্রে ট্রেনের অবস্থান রিয়েল টাইমে হালনাগাদ হয়।
বিলম্বের তথ্য: নির্ধারিত সময়সূচির চেয়ে ট্রেন কত মিনিট পিছিয়ে আছে, তা জানা যায়।
গতিবেগ ও বর্তমান স্টেশন: ট্রেনের সর্বশেষ গতিবেগ ও বর্তমান স্টেশনের তথ্য দেখা যায়।
প্ল্যাটফর্ম ও পৌঁছানোর তথ্য: ট্রেন কোন প্ল্যাটফর্মে আছে এবং কখন পৌঁছাতে পারে, তা দেখা যায়।
স্টেশন ভিউ: নির্দিষ্ট স্টেশন বেছে নিলে সেদিকে আসতে থাকা ট্রেনের তালিকা পাওয়া যায়। ছাপানো সময়সূচি নয়, লাইভ অবস্থান দেখে সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় জানা যায়।
সময়সূচি ও রুট: আন্তনগর ট্রেনগুলোর সময়সূচি, কোন স্টেশনে কখন থামবে ও ছাড়বে, তা জানা যায়। দুই স্টেশনের মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনও রুট সার্চে খুঁজে পাওয়া যায়।
ওয়েবে সেবা: অ্যাপ ইনস্টল না করেও ওয়েবসাইট থেকে ট্রেনের অবস্থান, রুট ও সময়সূচি দেখা যায়।
যেভাবে কাজ করে:
ট্রেন নিজে থেকে নিজের অবস্থান জানায় না। তাই এ ক্ষেত্রে ট্রেনে থাকা যাত্রীদের শেয়ার করা তথ্য ব্যবহার করা হয়।
আবু আনোয়ার জানান, প্রক্রিয়াটি তিন ধাপের:
(১) ট্রেনে থাকা যাত্রী অ্যাপে ‘আমি এই ট্রেনে আছি‘ অপশন চালু করেন।
(২) তার ফোনের লোকেশন শেয়ার হয়। সিস্টেম যাচাই করে দেখে ওই ব্যক্তি সত্যিই রেললাইনে আছেন কি না, তার গতি ট্রেনের গতির সঙ্গে মেলে কি না, সঠিক দিকে যাচ্ছেন কি না এবং ট্রেনটির সম্ভাব্য অবস্থানের কাছাকাছি আছেন কি না।
(৩) যাচাই শেষে সেই অবস্থানই ট্রেনের লাইভ লোকেশন হিসেবে সবাইকে দেখানো হয়। তিনি জানান, অ্যাপ চালুর আগে প্রতিটি আন্তনগর ট্রেনের পূর্ণ সময়সূচি, প্রতিটি স্টপেজ ও তার সময় এবং প্রতিটি স্টেশনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
গোপনীয়তা
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লোকেশন শেয়ারিং ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকে এবং ব্যবহারকারী নিজে চালু করলেই কেবল তা কাজ করে। অ্যাকাউন্ট না থাকায় কারও নাম বা ফোন নম্বরের সঙ্গে তথ্য যুক্ত হয় না। অ্যাপে ট্রেনের অবস্থান সংরক্ষণ করা হয়, ব্যক্তির নয়। ব্যবহারকারী শেয়ারিং বা অ্যাপ বন্ধ করলে তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ারিং থেমে যায়।
সীমাবদ্ধতা ও সতর্কতা:
অ্যাপটি বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি ব্যবস্থা নয়, এটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত কমিউনিটি–ভিত্তিক উদ্যোগ। সময়সূচি ও রুটের তথ্য রেলওয়ের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হলেও লাইভ অবস্থান যাত্রীদের জিপিএস শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল। কোনো ট্রেনে কেউ লোকেশন শেয়ার না করলে সেটির সঠিক অবস্থান জানা কঠিন হতে পারে। তাই জরুরি যাত্রার আগে রেলওয়ে বা স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো। দেশে একই ধরনের আরও কয়েকটি উদ্যোগ রয়েছে। এর মধ্যে আছে বিডি ট্রেন ট্র্যাকিং অ্যাপ, তালুকদার একাডেমির ‘Train Tracker’ ওয়েবসাইট এবং Rail.bd। এগুলোও যাত্রীদের শেয়ার করা তথ্যের ওপর নির্ভরশীল এবং রেলওয়ের সরকারি ব্যবস্থা নয়।
উদ্যোক্তা পরিচিতি:
আবু আনোয়ার বাংলাদেশের প্রথম গুগল ডেভেলপার এক্সপার্ট (জিডিই)। তিনি ফ্লাটার প্রযুক্তি নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল ‘দ্য ফ্লাটার ওয়ে‘র প্রতিষ্ঠাতা, অ্যাপটির গল্প শোনাতে যুক্তরাষ্ট্রে গুগল ডেভেলপার গ্রুপের ডেভফেস্ট সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। গত ২৪ অক্টোবর (শনিবার) নিউইয়র্কের ট্রয় শহরে ডেভফেস্টে বক্তব্য দিয়েছেন।








