
হামজার জন্য পথটা সহজ করতে চায় বাংলাদেশ

দীর্ঘ আট বছর পর ঢাকায় আবারো শুরু হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর। ঘরের মাঠে শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ভুটানের বিপক্ষে নিজেদের অভিযান শুরু করবে হামজা বিহীন বাংলাদেশ। জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে রাত আটটায়।
সাফ ফুটবল এখনো বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপতুল্য। একবার ট্রফি হাতে নেয়া আর দুই বার ফাইনালে হারা ছাড়া আর কোনো অর্জন নেই। দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন জামাল–তপুরা।
সাফের আগে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান কাপে হামজা–সুকিদের পারফম্যান্স ছিলো ল্যাজে গোবরে অবস্থা।তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯–২ গোলে হার, তাতে দল যে মানসিকভাবে রীতিমতো বিধ্বস্ত, তা স্পষ্ট।
বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি বলেন, আসিয়ান কাপে আমাদের পারফরম্যান্স ছিলো অপ্রত্যাশিত। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সাফের দীর্ঘ দিনের ব্যর্থতা কাটানোর পাশাপাশি নিজেদের ফুটবল দক্ষতা প্রমাণের জন্য এরচেয়ে ভালো সুযোগ আর হতে পারে না।
২০০৩ সাল থেকে সাফ টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলা ভুটান, ২০০৮ সালে সেমিফাইনালে খেলাটাই তাদের সেরা সাফল্য। গেলো জুনে প্রীতি ম্যাচে জোড়া গোল ব্যবধানে ভুটান হেরেছিলো স্বাগতিকদের কাছে। এবার তারাও চায় নিজেদের সেরাটা নিংড়ে খেলতে। তাই গেলো সেপ্টেম্বর থেকে লম্বা অনুশীলনে নিজেদের প্রস্তুত করেছে দলটি।
ভুটান ফুটবল দলের অধিনায়ক চেনচো গিয়ালশেন বলেন, হামজা চৌধুরী খেলবেন শুনলাম, তাতে অনেকে খুশি হলেও আমরা নই। কারণ আমাদের পরিকল্পনা শুধু হামজা নির্ভর নয়। বাংলাদেশ দলের সাথে অনেকবার খেলেছি, প্রতিবারই জয়ের জন্য লড়াই করি, এবারও তাই হবে।
২০০৩ সালে সাফের আসরে প্রথম ম্যাচে ভুটানকে হারিয়ে জয়রথ শুরু হয় লাল–সবুজদের। এবারো কি তার পুণরাবৃত্তি হবে কিনা, সেটিই দেখার বিষয়।
নতুন প্রজন্ম অতীতের গল্প শুনে থাকতে চায় না। তারা নতুন ইতিহাস দেখতে চায়। ফুটবলের এই সবুজ গালিচা, শুধু একটি টুর্নামেন্টের ভেন্যু নয় বরং একটি জাতির দীর্ঘশ্বাস ও প্রত্যাশার মিলনস্থল। যেখানে অতীতের ব্যর্থতা মুছে দেওয়ার ডাক দিচ্ছে বর্তমান, আর ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে সেই উত্তরের অপেক্ষায়।
মোহাম্মদ হাসিব/এফ/ দীপ্ত স্পোর্টস








