এআইনির্ভর ভুয়া প্রোফাইল, ছবি ও ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে ফেসবুক। প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্ত করতে বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।
তবে এই ব্যাজ পেতে ব্যবহারকারীদের পরিচয় যাচাইয়ের একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর অংশ হিসেবে নিজের সেলফি ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। সেই ভিডিও ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে থাকা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করা হবে।
মেটা জানিয়েছে, নতুন এই ভেরিফায়েড ব্যাজের মাধ্যমে বোঝা যাবে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক প্রোফাইলের পেছনে সত্যিকারের একজন মানুষ রয়েছেন কি না। তবে এটি মেটার সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ‘মেটা ভেরিফায়েড’ সেবার থেকে আলাদা। নতুন সুবিধাটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হচ্ছে।
ভেরিফায়েড ব্যাজ পেতে যেসব শর্ত
ফেসবুকের নতুন ভেরিফায়েড ব্যাজ পেতে ব্যবহারকারীদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
২. অ্যাকাউন্টটি ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে।
৩. অ্যাকাউন্টে প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের কোনো রেকর্ড থাকা যাবে না।
৪. পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় সফল হতে হবে।
পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ফেসবুকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ভেরিফায়েড ব্যাজ দেখা যাবে। এর মধ্যে ব্যবহারকারীর প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিংয়ের মতো স্থান রয়েছে।
মেটার দাবি, এআই প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এখন অল্প সময়েই ভুয়া ছবি, ভিডিও, পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্য দেখতে প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে অনলাইন প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টের ঝুঁকি বাড়ছে।
নতুন ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু হলে ব্যবহারকারীরা সহজে বুঝতে পারবেন, তারা যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সেই অ্যাকাউন্টের পেছনে সত্যিকারের একজন ব্যক্তি রয়েছেন কিনা।
তবে মেটা স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেবে না। এটি শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা হয়েছে—এমন একটি প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। তাই ভেরিফায়েড ব্যাজ থাকলেও অনলাইনে লেনদেনের সময় বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকতে হবে।
মেটা জানিয়েছে, ধাপে ধাপে ফেসবুকের এই বিনা মূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করা হবে। প্রথমে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে সুবিধাটি চালুর পর পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটি সম্প্রসারণ করা হবে। তবে কোন কোন দেশে প্রথম ধাপে এটি চালু হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।