সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
UPCOMING
FIFA 2026 24H Window

FIXTURES

MATCH -- VENUE -
- - -
VS
- - -
KICK OFF:
Processing...
সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেহরানে খামেনির শেষযাত্রা শুরু, লাখো মানুষের ঢল

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষযাত্রা উপলক্ষে সোমবার রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষ সমবেত হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষের ধারণা, এ জনসমাগম কয়েক দশক আগে তার পূর্বসূরির শেষযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা জানানো হয়নি। তবে এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, তেহরানের প্রধান প্রধান সড়কজুড়ে মানুষের বিশাল ঢল নেমেছে।

তেহরান থেকে এএফপি জানায়, পাঁচ সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর এ আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের দৃঢ়তা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে ইরান। তবে নজর এখনো খামেনির উত্তরসূরি তার ছেলে মোজতবা খামেনির দিকে, যিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়া আলি খামেনির মরদেহ রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে দুই দিন রাখা হয়। এরপর সোমবার বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে কফিনটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণের জন্য নেওয়া হয়।

এএফপির ছবিতে দেখা গেছে, ফুলের পাপড়িতে আচ্ছাদিত কফিনটি ধীরে ধীরে তেহরানের সড়ক অতিক্রম করছে।

কর্তৃপক্ষ ১৯৮৯ সালে খামেনির পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষযাত্রার সময় ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সতর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ’র তথ্য অনুযায়ী, সে সময় প্রায় এক কোটি মানুষ শেষযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন।

খোমেনির শেষযাত্রায় পদদলিত হয়ে ১০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।

শেষযাত্রায় অংশ নেওয়া ৫৮ বছর বয়সী গোলামরেজা খানবাবাই বলেন, ‘আমি যদি সেই অনুষ্ঠানের সঙ্গে এটির তুলনা করি, তাহলে বলব—দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে এবার মানুষের আবেগ আরও বেশি বলে মনে হচ্ছে।’

সাবেক নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ রাখা হয়।

শোকাহত মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি তেহরানসমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর পতাকা এবং প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা বহন করেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের ইমাম হোসেন চত্বরে সমবেত কিছু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে রাখেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদও শেষযাত্রায় অংশ নেন।

তীব্র গরমের মধ্যে শোকাহত মানুষের স্বস্তির জন্য ট্রাক থেকে পানি ছিটানো হয়। একই সঙ্গে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ইরানের জাতীয় পতাকা এবং আলি ও মোজতবা খামেনির ছবি বিতরণ করা হয়।

 

মোজতবা এখনো অনুপস্থিত

শেষযাত্রার পথ প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর এক দিন আগে হাজারো মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে গিয়ে খামেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত তার পরিবারের চার সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পদদলনের ঘটনা এড়াতে কমপ্লেক্সের ভেতরে বিশাল কংক্রিটের দেয়াল দিয়ে সাধারণ মানুষকে কফিন থেকে আলাদা রাখা হয়।

সোমবারের শোভাযাত্রায় সাধারণ মানুষ কতটা কাছে যেতে পারবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ১৯৮৯ সালের অভিজ্ঞতা থেকে কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে। সে সময় শোকাহত জনতা খোমেনিকে বহনকারী যানবাহনে উঠে পড়ায় তার কাফনের কাপড় ছিঁড়ে যায় এবং মরদেহ মাটিতে পড়ে যায়। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে দাফনের স্থানে নিতে হয়েছিল।

সোমবারের শোভাযাত্রার পর মঙ্গলবার ধর্মীয় নগরী কোমে এবং বুধবার ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় একই ধরনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বৃহস্পতিবার উত্তরপূর্ব ইরানের নিজ শহর মাশহাদে খামেনিকে দাফন করা হবে।

রোববারের জানাজায় আলি খামেনির তিন ছেলে বিরলভাবে জনসমক্ষে উপস্থিত হন। এতে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি আরও বেশি আলোচনায় আসে। বাবার নিহত হওয়ার পরপরই তাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান হামলায় তিনি আহত হয়েছেন। তবে তার আঘাত কতটা গুরুতর, তা স্পষ্ট নয়।

ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নতুন কমান্ডার আহমাদ বাহিদিও রোববার দ্বিতীয়বারের মতো শেষকৃত্যে অংশ নেন। তার পূর্বসূরি ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হন। পুরো যুদ্ধ চলাকালে তিনি জনসমক্ষে দেখা না দিলেও এবার খোলা স্থানে উপস্থিত হন।

বিপ্লবী গার্ডের বিদেশি অভিযানবিষয়ক কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানিও বিরলভাবে জনসমক্ষে দেখা দেন।

আমরা প্রতিশোধ চাই’

গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে কঠোর দমনপীড়নের মাধ্যমে দমন করা হয়েছিল এবং যাতে হাজারো মানুষ নিহত হন, তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের প্রতি জনসমর্থন প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে এ ব্যাপক জনসমাগমকে তুলে ধরতে আগ্রহী কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও প্রাথমিক সমঝোতার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয়ই আবার সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। শেষযাত্রাজুড়েও প্রতিশোধের আহ্বান ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়।

পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতমুখী নীতি অনুসরণ করেছিলেন আলি খামেনি। একই সঙ্গে তেহরান বহু বছর ধরে ফিলিস্তিনের হামাস এবং লেবাননের হিজবুল্লাহসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। এ দুই সংগঠনও শেষকৃত্যে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে।

শেষযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেক সমর্থকও একই ধরনের অবস্থান ব্যক্ত করেন।

গোলামরেজা খানবাবাই বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই। এটি নিতেই হবে। কারণ পরে যদি তা না নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More