আরওপি-জনিত শিশু অন্ধত্ব প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

শিশুঅন্ধত্ব কমাতে ‘রেটিনোপ্যাথি অফ প্রিম্যাচিউরিটি‘ বা আরওপি সম্পর্কে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং অভিভাবকদের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারের বক্তারা।

সোমবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে তারা বলেন, অপরিণত নবজাতকদের সময়মতো স্ক্রিনিং (পরীক্ষা) ও চিকিৎসার মাধ্যমে শিশু অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের সহযোগিতায় অরবিস ইন্টারন্যাশনাল “বৈজ্ঞানিক সেমিনার: আরওপি পরীক্ষা ও ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রখ্যাত নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ (নিওনাটোলজিস্ট) অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান এবং আরওপি ও রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডা. তারিক রেজা আলী সেমিনারে দুটি আলাদা গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) কর্মরত নিওনাটোলজিস্ট, চিকিৎসক ও নার্সরা অংশ নেন।

অধ্যাপক আব্দুল মান্নান জানান, ৩৫ সপ্তাহের কম গর্ভাবস্থায় থাকা এবং দুই কেজির কম ওজনের শিশুদের আরওপি–তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তিনি বলেন, “জন্মের ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অপরিণত শিশুদের চোখ পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং না করা হলে এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে তারা দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে।”

তিনি আরওপি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী, বিশেষ করে নিওনাটোলজিস্ট ও এনআইসিইউ–তে কর্মরত কর্মী, এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

অধ্যাপক মান্নান উল্লেখ করেন যে, নিওনাটোলজিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরুর সময় তিনি নিজেও আরওপি সম্পর্কে জানতেন না; তাই স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে এই রোগ বিষয়ক জ্ঞান বৃদ্ধির গুরুত্ব অপরিসীম।

অপরিণত নবজাতকদের অভিভাবকদের সঠিকভাবে পরামর্শ দিতে নিওনাটোলজিস্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদেরকে বোঝাতে হবে যে, জন্মের ২০–৩০ দিনের মধ্যে আরওপি স্ক্রিনিংয়ের জন্য শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে না নিলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে।

বিভিন্ন জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ শিশু অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয় এবং স্ক্রিনিং করা শিশুদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে আরওপি শনাক্ত হয়।

ডা. তারিক রেজা আলী বলেন, অপরিণত শিশুদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশে আরওপিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অপরিণত নবজাতকদের ক্ষেত্রে যথাসময়ে চোখের পরীক্ষা এবং আরওপির যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আরও জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।

অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ বলেন, আরওপি স্ক্রিনিং ও এর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নবজাতকদের বাবা–মাকে পরামর্শ প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।

অপরিণত নবজাতকরা যাতে যথাসময়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসা পায় এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো সমস্যা থেকে রক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করতে তিনি নবজাতক বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, নার্স, অভিভাবক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের নিওনাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. খালেদ নূর। এছাড়া বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের নবনির্বাচিত সভাপতি ডা. বেগম শরিফুন নাহার এবং বিআরবি হাসপাতালের নবজাতক বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুন নাহারও সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More