জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচির সাজা হ্রাসের পর তাকে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর অন্যায়ভাবে আটক স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিসহ সকল ব্যক্তির তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত মুক্তি প্রয়োজন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘মিয়ানমারের সব মানুষের বিরুদ্ধে চলমান নিরবচ্ছিন্ন সহিংসতার অবসান ঘটাতে হবে।’
স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক শাসনের অধীনে থাকা মিয়ানমারে এক দশকের গণতান্ত্রিক পরীক্ষার মাধ্যমে বেসামরিক রাজনীতিবিদরা সীমিত ক্ষমতা লাভ করেছিল।
তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী আবারও ক্ষমতা দখল করে নেয়, অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে তাকে আটক করে। এতে দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়।
অং সান সু চির সাজা শুক্রবার একটি সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে কমানো হয়েছে বলে তার আইনি দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে।
একইসঙ্গে অভ্যুত্থানের পর আটক থাকা মিয়ানমারের সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তকেও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
ফলকার তুর্ক বলেন, উইন মিন্তসহ অন্য বন্দিদের ‘দীর্ঘদিনের বিলম্বিত মুক্তি’ এবং মৃত্যুদণ্ড হ্রাসের ঘটনায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন।
২০১৮ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উইন মিন্ত এমন এক সময়ে দায়িত্বে ছিলেন, যখন মিয়ানমারে বেসামরিক সরকারের পরীক্ষামূলক যাত্রা চলছিল, যা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।
তবে সে সময়ও রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক ছিল এবং কার্যত সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন অং সান সু চি, যিনি সামরিক সংবিধানের কারণে প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি এখনও কারাগারে রয়েছেন এবং তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করে।