রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসায় ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তার ছেলে যুগ্ম–সচিব আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার।
বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আনিসুর রহমানকে তার বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম–সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
আরও বলা হয়, আনিসুর রহমান বর্তমানে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নির্দেশিত নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
এর আগে দুপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, পিতা–মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বক্তব্য নেয়াসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
গত ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার এক ছেলে যুগ্ম সচিব, এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
নুরজাহান বেগমের গলিত মরদেহ উদ্ধারের পর তার সন্তানদের মাকে অবহেলার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নূর জাহান বেগম ওই বাসায় তার মেয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। বাসার ভেতরের পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর ও অবহেলিত। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজরে আসে এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ভিডিও ও ছবিতে পুরো ফ্ল্যাটের করুণ ও অস্বাস্থ্যকর চিত্র ফুটে ওঠে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন বৃদ্ধ নারীকে এভাবে দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় জীবনযাপন করতে দেখা অত্যন্ত দুঃখজনক। মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পরিবার ও সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, নূর জাহান বেগমের এক ছেলে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং একমাত্র মেয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত। সন্তানরা প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত পেশায় থাকলেও মায়ের এমন মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।