আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ শুধু মাঠের বিষয় নয়, এর সঙ্গে দেশ দুটির মানুষের আবেগ জড়িত। ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে তাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংলিশদের বিপক্ষে হাত দিয়ে গোল করেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা, যা ফুটবল ইতিহাসে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যাচ কি শুধু পরের রাউন্ডে যাওয়ার লড়াই ? ইতিহাস কিন্তু তা বলে না। বিশ্বমঞ্চে এই দু‘দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই, অন্য কিছু। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পিটার শিল্টনকে ফাঁকি দিয়ে, ডিয়েগো ম্যারাডোনা রসেই বিতর্কিত হাত দিয়ে গোল। যাকে তিনি বলেছেন–হ্যান্ড অব গড।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের স্মৃতি। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এই যুদ্ধ হয়। দ্বীপপুঞ্জটির অবস্থান আর্জেন্টিনার পূর্ব উপকূলে। ৭৪ দিনের যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ এবং ২৫৫ ব্রিটিশ সেনা নিহত হয়। যুদ্ধে পরাজয়ের ক্ষত আজও আর্জেন্টিনার জাতীয় স্মৃতির অংশ। অনেকের কাছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফুটবল ম্যাচ সেই পরাজয়ের প্রতীকী জবাব দেওয়ার মঞ্চ।
ফকল্যান্ড যুদ্ধের চার বছর পর, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই ম্যাচেই জন্ম নেয় ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার। ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত, হ্যান্ড অব গড গোল।
দুই দেশের বৈরিতা অবশ্য যুদ্ধ দিয়েই শুরু হয়নি। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিনকে বিতর্কিতভাবে লাল কার্ড দেখালে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের কোচ আলফ রামসে নিজের খেলোয়াড়দের আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের সঙ্গে জার্সি বদল করতে নিষেধ করেন। তাদেরকে পশু বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই মন্তব্যকে বর্ণবাদী হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করে আর্জেন্টিনা। তখন থেকে দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে।
চলতি বিশ্বমঞ্চের লড়াইয়ে বাড়তি আবেগের কারণ লিওনেল মেসি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি তিনি। তাই ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চান আর্জেন্টিনার সমর্থকরা।
মোহাম্মদ হাসিব/এজে/দীপ্ত সংবাদ