শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুর বিভাগের ৪ জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে রংপুর বিভাগের ৪টি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা রয়েছে।

দেশের উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে আগামী তিন দিনের মধ্যে রংপুর বিভাগের ৪টি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদনদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরীণ রংপুর, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সাথে উজানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশেও ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৫ দিন দেশের অভ্যন্তরীণ রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

নদনদীর সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রযমুনা নদনদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে, যা আগামী ৫ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে পানি বিপদসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গঙ্গাপদ্মা অববাহিকার পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল ছিল, যা আগামী ৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী ২ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। উত্তরপূর্বাঞ্চলের সুরমাকুশিয়ারা নদীসমূহের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী ৩ দিন এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নদীগুলো সতর্কসীমা ছুঁয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

বিশেষ করে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিন আরও বাড়তে পারে। এর ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টায় উক্ত নদীসমূহ নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে একটি স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম ও কংস নদীর পানি হ্রাস পেলেও ভোগাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৩ দিন এই অঞ্চলের নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে, যার ফলে নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

একই সময়ে সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে যাদুকাটা, মনু ও ধলাই নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে; যা আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সেলোনিয়া, গোমতী, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিনে পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More