অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ১৩ আগস্ট শুরু হওয়া এই টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
প্রথম ইনিংসেই বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় বিধ্বংসী অস্ট্রেলিয়া। আর এই ধসের মূল কারিগর ছিলেন হাসান মাহমুদ। মাত্র ১৭ ওভার বল করে ৫৫ রান দিয়ে তুলে নেন ৬টি উইকেট।
অজি ব্যাটিং লাইনআপে একমাত্র স্টিভ স্মিথই প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তার ৭১ রানের ইনিংসের ওপর ভর করেই ১৯৮ রানে পৌঁছায় অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের পাশাপাশি তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন নেন ২টি করে উইকেট।
এরপর প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হলেও ৩৬ রানেই প্রথম উইকেট হারায় টাইগাররা। ৩০ বলে ২০ রান করা সাদমান ইসলামকে ফেরান মিচেল স্টার্ক।
তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম ও মুমিনুল হক গড়েন ১০২ রানের দুর্দান্ত জুটি। ব্যক্তিগত ৪৯ রানে মুমিনুল ফিরলেও ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েন তামিম।
তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কা।
এরপর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। মুশফিক ৩৬ রানে ফিরে গেলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ৮৪ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন শান্ত।
শেষদিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ভর করে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় টাইগাররা।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জশ হ্যাজলউড ২৮ ওভার বল করে একাই শিকার করেন ৬টি উইকেট।
এরপর তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে অজিদের চাপে ফেলে হাসান মাহমুদ।
তবে স্টিভ স্মিথ আবারও বাংলাদেশের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ান। ৮৮ বলে ৪৪ রান করা এই ব্যাটারকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩য় দিনের খেলায় শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৬১ রান।
বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ নেন ২টি উইকেট। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ শিকার করেন একটি করে উইকেট। অস্ট্রেলিয়া এখনো প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে।
ম্যাচের বাকি আছে আরও দুই দিন। চতুর্থ দিনের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামাতে পারলে বাংলাদেশের সামনে খুলে যেতে পারে ইতিহাসের দরজা।
কারণ অস্ট্রেলিয়াকে যত কম রানে অলআউট করা যাবে, বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্যও ততটাই ছোট হবে। আর সেই লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নিতে পারলেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ।
২০১৭ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার লড়াইটা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। তাই এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার এক বিরাট সুযোগ।