বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

রাজধানীতে আধুনিক হকার পুনর্বাসন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

রাজধানীর গুলিস্তানে শতাধিক হকারকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক হকার পুনর্বাসন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে প্রস্তাবিত “ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা২০২৬” এর আওতায় হকার পুনর্বাসন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।

ঢাকা মহানগরীর ফুটপাথে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং হকারদের সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গুলিস্তান এলাকায় শতাধিক হকারকে রমনা ভবন সংলগ্ন রিংক রোড এলাকায় পুনবার্সনের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র হস্তান্তর করা হয়।

প্রস্তাবিত নীতিমালার অধীনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত এলাকাসমূহ হলো গুলিস্থানে রমনা ভবনের লিংক রোডে দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশে এজিবি কলোনি মাঠসান্ধ্যকালীন মার্কেট (সন্ধ্যা ৬টা হতে রাত ১০টা), মতিঝিল ইসলাম চেম্বারের সামনে ও আশেপাশের এলাকায় সান্ধ্যকালীন মার্কেট (সন্ধ্যা ৬টা হতে রাত ১০টা), রাজউক ভবনের পেছনে:

দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট, গুলিস্তান টুইন টাওয়ার গলি, দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট, বাইতুল মোকাররম পূর্বগেইট সংলগ্ন লিংক রোড, দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট, নিউ মার্কেটের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন এক পাশে, দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট, শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অভ্যন্তরে মাঠ সংলগ্ন রাস্তা, দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, শতাধিক এই সব হকারদেরকে কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক সকল হকারকে প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এছাড়া, ট্রাফিক পুলিশ সহজেই তাদের বৈধতা ও বসার স্থান যাচাই করতে পারবে।তিনি আরও বলেন, “হকার বসার পরও ফুটপাথে পথচারীদের চলাচলের জন্য নূন্যতম ৫৬ ফুট জায়গা উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা আজ ঢাকা শহরে হকার ব্যবস্থাপনা শুরু করেছি। এর ফলে একদিকে যেমন নিরাপদ ও পথচারী বান্ধব ফুটপাত নিশ্চিতকরণ ও সড়কে শৃঙ্খলা আনয়ন সম্ভব হবে। অন্য দিকে হকার নিবন্ধন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন হবে।

এই উদ্যোগকে মানবিক ও যুগান্তকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হকার, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও সাধারণ মানুষ সবাই মিলে সহযোগিতা করলে এই ঢাকা শহরকে সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব।পুনর্বাসনের পর সরকার ও সিটি কর্পোরেশনের সকল বিধিবিধান মেনে এবং বরাদ্দকৃত জায়গার পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি হকারদের প্রতি আহ্বান জানান।

উদ্বোধনকালে জানানো হয়, খেলার মাঠ, স্কুল মাঠ বা ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে কোনো বাজার বসানো যাবে না। এছাড়া কোনো স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা যাবে না। নীতিমালা লঙঘনকারী বা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ হকারদের যেকোনো সময় উচ্ছেদের পূর্ণ এখতিয়ার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবে। এছাড়া হকারদের কাছ থেকে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর তদারকি করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের যুগ্মসচিব জনাব পরিমল সরকার এবং ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব মো. আনিছুর রহমান। বক্তারা এই উদ্যোগকে ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটিবিনির্মাণের পথে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More