বছর ঘুরে সাম্য, ত্যাগ ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব, যা আমাদের দেশে ‘কোরবানি ঈদ’ নামেও পরিচিত।
হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হয়। ঈদুল ফিতরের মতো এ ঈদে আগের দিন চাঁদ দেখা নিয়ে ঔৎসুক্য থাকে না; ১০ দিন আগেই ঈদের তারিখ নির্ধারিত হয়ে যায়।
আজ ২৮ মে, ১০ জিলহজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে আনন্দ–উচ্ছ্বাসে উদ্যাপিত হচ্ছে কোরবানির ঈদ। দুই রাকাত ওয়াজিব ঈদ নামাজ আদায় শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করবেন
ঈদ মানেই আনন্দ। এ আনন্দ ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে সর্বজনীন করার বার্তা দিয়েছেন মহান সৃষ্টিকর্তা। আর ঈদুল আজহা মানেই ত্যাগের উৎসর্গ।
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে, আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানি বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছি, যাতে তারা ওই পশুদের জবাই করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। আর তোমাদের প্রতিপালক তো এক আল্লাহই, তোমরা তারই অনুগত হও। (সুরা হজ: ৩৪
প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিল না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।’
পবিত্র ঈদুল আযহা হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র হযরত ইসমাইলের (আ.) সঙ্গে সম্পর্কিত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। পরম করুণাময় আল্লাহর অপার মহিমায় ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়।
সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই হযরত ইব্রাহিম (আ.) সুন্নত হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানি বিধান এসেছে ইসলামি শরিয়তে
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে দীর্ঘ ছুটি শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সরকারি, আধা–সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
এসএ