সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচিত চিকিৎসক দম্পতি সুষমা রেজা ও কুশালের বিচ্ছেদ

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল আলোচিত চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সাইদুল আশরাফ কুশাল দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন।

শনিবার (২৭ জুন) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুষমা রেজা তার স্বামী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কুশালের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের কথা জানান।

ফেসবুক দেওয়া ওই পোস্টে কুশালকে ট্যাগ করে সুষমা রেজা লিখেছেন, অনেক ভেবেচিন্তে, দীর্ঘ আত্মসমালোচনার পর আমরা দুজন পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সিদ্ধান্তের কথাই আপনাদের জানাচ্ছি।

তিনি লিখেছেন, ‘এত দিন ধরে যারা আমাদের ভালোবেসেছেন, আমাদের পথচলার সঙ্গী হয়েছেন, তাদের অনেকের কাছেই এই সংবাদটি কষ্ট, বিস্ময় কিংবা নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে—সেটা আমরা বুঝি। সেই ভালোবাসা ও আস্থার প্রতি সম্মান রেখেই আমরা চেয়েছি, খবরটি অন্য কোথাও থেকে নয়, আমাদের দুজনের কাছ থেকেই আপনারা শুনুন।

জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে আমরা আপনাদের দোয়া কামনা করছি।’

খুব অল্প বয়সে একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে ডা. সুষমা রেজা বলেন, ‘দেখতে দেখতে প্রায় দুই দশক কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা একটি পরিবার গড়েছি, আমাদের সন্তানদের বড় হতে দেখেছি আর জীবনের অসংখ্য সুখদুঃখ, অর্জন, সংগ্রাম ও স্মৃতি একসঙ্গে বয়ে নিয়ে চলেছি। সেই স্মৃতিগুলো আমাদের জীবনের অমূল্য অংশ হয়ে থাকবে সব সময়।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা দুজনই উপলব্ধি করেছি, আমাদের সম্পর্ক সেই জায়গাটিতে নেই, যেখান থেকে আমরা শুরু করেছিলাম। সময়ের সাথে সাথে আমরা বদলেছি, সম্পর্কটাও বদলেছে। একটা সময় পরিবর্তনগুলো দেখে আমরা বুঝতে পেরেছি, জীবনের এই পর্যায়ে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াই আমাদের দুজনের জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক সিদ্ধান্ত।’

ডা. সুষমা আরো বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি যেকোনো সম্পর্কের মতোই আমাদের সম্পর্কেও ছিল আনন্দ, ছিল সংগ্রাম, ছিল সীমাবদ্ধতা, আবার ছিল অসংখ্য আশীর্বাদও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনারা আমাদের জীবনের যে মুহূর্তগুলো দেখেছেন, সেগুলো কখনোই একটি নিখুঁত সম্পর্কের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা ছিল না।

ওগুলো ছিল আমাদের জীবনের সত্যিকারের কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমরা আন্তরিকভাবে বেঁচেছি, ভালোবেসেছি এবং আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি। এই দীর্ঘ পথচলায় আমাদের পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী যেভাবে আমাদের পাশে থেকেছেন, সাহস দিয়েছেন, ভালোবেসেছেন এবং আমাদের জন্য দোয়া করেছেন সে জন্য আমরা হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ।’

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে একটি ব্যক্তিগত ঘটনা মুহূর্তের মধ্যেই অসংখ্য মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি অনুরোধ জানিয়েছে বলেছেন, ‘আমাদের জীবনের এই সময়টুকুকে অনুগ্রহ করে অনুমান, গুজব কিংবা বিচারবিশ্লেষণের বিষয় করে তুলবেন না। প্রায় ২০ বছরের এই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানছি আমরা পরস্পরের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং এক ধরনের শান্ত গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে।’

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More