বিজ্ঞাপনচিত্রে চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে হত্যাচেষ্টা, শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী (ইসরাত জাহান)।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে স্নিগ্ধা চৌধুরী তাঁর বনানীর বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
এদিকে, এ ঘটনায় রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে খিলক্ষেত থানায় তিনি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেন, গত শুক্রবার বিজ্ঞাপনচিত্রের চুক্তির কথা বলে তাঁকে খিলক্ষেতের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তাঁকে অন্য এক নারী ভেবে মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া তাঁর দিকে শটগান তাক করেন, হাত–পা বেঁধে গলা চেপে ধরেন এবং কাঠের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।
স্নিগ্ধার ভাষ্য, তিনি ঘটনার কারণ জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া তাঁকে ‘জেবা টাকিয়া’ ভেবে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন। তখন তিনি নিজেকে জেবা টাকিয়া নন বলে জানালেও তা বিশ্বাস করা হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তাঁর মুখ চেপে ধরে জোর করে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করানো হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য কক্ষে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
এরপর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন বলে দাবি করেন স্নিগ্ধা চৌধুরী (ইসরাত জাহান)।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে আশিয়ান গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস) সৈয়দ শফিকুল ইসলাম এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তাই প্রতিষ্ঠানটি আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে।
উল্লেখ্য, স্নিগ্ধা চৌধুরী বাংলাদেশের একজন পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। তিনি ২০১৮ সালে মডেলিং মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। গত ঈদে সিনেমাহলে মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’।
এসএ