নানা জটিলতায় প্রায় আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে উদ্বোধন করা হয়েছে শরীয়তপুরের নড়িয়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নব নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নতুন ভবন উদ্বোধন হওয়ায় স্বস্থি ফিরে পেয়েছে উপজেলাবাসী।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকায় নবনির্মিত ৫০ শয্যার নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ।
জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আগে মূলফৎগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত ছিল। ২০১৮ সালে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে পুরোনো হাসপাতাল ভবনের অধিকাংশ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে নড়িয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাসিন্দাদের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন ধরে নতুন একটি হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা।
পরবর্তীতে সরকার নড়িয়ায় নতুন ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। নড়িয়া পৌরসভা এলাকায় উপজেলা পরিষদের কাছাকাছি প্রায় ছয় একর জমির ওপর প্রায় ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
তবে ভবন নির্মাণ শেষ হলেও নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। কেদারপুর এলাকার বাসিন্দা মাসুদুর রহমান দেওয়ান পুরোনো স্থানেই হাসপাতাল চালুর দাবিতে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। ওই রিটের নিষ্পত্তি না হওয়ায় নবনির্মিত হাসপাতালটি চালু করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
এদিকে দীর্ঘদিন হাসপাতালটি বন্ধ ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় একপর্যায়ে হাসপাতালের বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটে। এ কারণে হাসপাতাল চালুর প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে প্রায় ছয় মাস অতিরিক্ত সময় হাসপাতালটি বন্ধ থাকে।
সবশেষে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে রোববার হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর নড়িয়াবাসীর জন্য উপজেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার আধুনিক চিকিৎসাসেবার দ্বার উন্মুক্ত হলো।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডাঃ রেহান উদ্দিন আহমেদ, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল কাইয়ুম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ, নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) লাকী দাস, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ফারহানা কাদির লাবন্য, নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি সামসুল আলম দাদন, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝিসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষজন।
স্থানীয় বাসিন্দা কাশেম বেপারি বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে পুরোনো হাসপাতালটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই নড়িয়ার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নতুন হাসপাতালটি চালু হওয়ায় এখন আমাদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথ সহজ হবে।
শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরন বলেন, স্থানীয় কিছু লোকজনের প্রতিবন্ধকতার কারণে গত দুই বছর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু করতে দেরি হয়েছে। এতে স্থানীয় লোকজনের স্বাস্থ্যসেবা পেতে বেগ পোহাতে হয়েছে৷ অবশেষে বহুল প্রত্যাশিত নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হল। আগামীকাল থেকেই পুরোদমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে৷
তিনি আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি ১০১ শয্যায় পরিনত করতে সয়েল টেস্টসহ সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে৷