খাওয়ার পর ছবি কেন, নেত্রী তোমার ওপর বিরক্ত, কাদের-হারুনের ফোনালাপ

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন দমনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছে প্রসিকিউশন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এ রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছে প্রসিকিউশন।

এ মামলায় ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন ফোনালাপ উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তৎকালীন ডিসি–ডিবি হারুন–অর–রশীদের সঙ্গে ফোনালাপ হয়।

সেই ফোনালাপে ডিবি হেফাজতে থাকা ছয় সমন্বয়কের খাবার টেবিলের ছবি প্রকাশ করায় বিরক্ত হন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ছয় জনের খাবারের ছবি কেন?

ফোনালাপটি হুবহু তুলে ধরা হলা

ওবায়দুল কাদের: হ্যালো।

হারুন–অর–রশিদ: স্যার, আসসালামু আলাইকুম স্যার।

ওবায়দুল কাদের: ইয়া হারুন কি তুমি এত, নেত্রীও তো বিরক্ত হয়েছে।

হারুন–অর–রশিদ: স্যার আমি তো

ওবায়দুল কাদের: তোমারে প্রত্যেকদিন বলতেছিলাম তুমি ভালো করতেছো।

হারুন–অর–রশিদ: স্যার, স্যার আমি

ওবায়দুল কাদের: এই মুহূর্তে আবার খাওয়ায় ওই ছবি, কেন তুমি?

হারুন–অর–রশিদ: না না এ খাওয়ার ডিসিশনটা কে দিছে স্যার? আমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমার এসবির চিফ এরা দিছে খাওয়ায় নেওয়ার জন্য।

ওবায়দুল কাদের: না, তারা নির্দেশ দিছে তোমাকে ছবি তুলে বাইরে পাঠাতে কয়?

হারুন–অর–রশিদ: জ্বি স্যার জ্বি স্যার ছবি তোলা প্লাস হইলো ওই যে ডিবির দুইটা প্রকাশ্য, ছবি তোলা।

ওবায়দুল কাদের: ছবিটা নিজের কাছে রেখে দিতা। সব নির্দেশ কার কাছে নিয়া দিবা, এটা কেন?

হারুন–অর–রশিদ: না না ওনারা তো বলছে প্রকাশ করার জন্য স্যার। মনির স্যারের, এসবি চিফ স্যারের জিজ্ঞাসা করেন স্যার, মনির স্যার বলছে কি না।

ওবায়দুল কাদের: কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যখন এগুলো বলতেছিলেন,,

হারুন–অর–রশিদ: জ্বি স্যার।

ওবায়দুল কাদের: তখন তো হোম মিনিস্টারও ওখানে ছিল।

হারুন–অর–রশিদ: স্যার অহন যদি ওনারা সাপোর্ট না দেয় আমারে, এহন হোম মিনিস্টার প্রধানমন্ত্রী বলতেছে, হোম মিনিস্টারকে বুদ্ধি করতে। হোম মিনিস্টার হোম মিনিস্টার চেঞ্জ করতে হবে না?

ওবায়দুল কাদের: উল্টা তো তুমি দোষারোপ করে বসেছ।

হারুন–অর–রশিদ: স্যার হোম মিনিস্টার বলছে, তো পিএম পিএম নাকি বলছে।

ওবায়দুল কাদের: এখন এদেরকে কি করলা?

হারুন–অর–রশিদ: কোনটা?

ওবায়দুল কাদের: ওই ছয়জন?

হারুন–অর–রশিদ: ছয়জন তো স্যার এটা তো স্যার স্যার প্রতিদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় মিটিং হয়, প্রতিদিন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় মিটিং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমপিকে যা নির্দেশ দেয়, সেটাই –আমি করি। যা নির্দেশ সেটাই আমি করি।

ওবায়দুল কাদের: আমি বলছি যে ওই তুমি যাদেরকে ওখানে হেফাজতে রাখছো। তাদের সেইফ কি আছে?

হারুন–অর–রশিদ: স্যার এটা তো এটা তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার ওখানে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত যা দেয় তাই করি। এটা আমি স্বতস্ফূর্তভাবে তো করবো না তো। করতেছি না তো স্যার।

ওবায়দুল কাদের: তো এরা ওখানেই আছে?

হারুন–অর–রশিদ: এখানে আছে স্যার। ওনারা যা বলবে সেটাই হবে স্যার।

ওবায়দুল কাদের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না সে যদি,

হারুন–অর–রশিদ: স্যার এখন এখন স্যার এখন আমি এখন আমি যেটা বলি স্যার এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমারে কমিশনাররে বলে দিছে আমার বদলি করা লাগে। তাই আমি আমার বদলি করে দিছে স্যার। আমার অপরাধটা কি স্যার? আমার অপরাধ কি স্যার?

ওবায়দুল কাদের: তা ও তো নেত্রী যে নির্দেশ দিতেছে।

সেখানে তো হি ওয়াজ নট ডিফেন্ডিং ইউ। সেও তো এমন ভাব দেখাচ্ছে যে তুমি নিজেই করো।

হারুন–অর–রশিদ: এখানে এখানে পিএমকে এসে কথা বুঝায় বলেন।

ওবায়দুল কাদের: তুমি সব তুমি নিজেই করো।

হারুন–অর–রশিদ: জ্বি?

ওবায়দুল কাদের: নিজে নিজে করো।

হারুন–অর–রশিদ: আমি স্যার আমরা যা করছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির নির্দেশে করছি। এর বাহিরে এক বিন্দু করি নাই। আপনি এটা প্রমাণ দিয়েন।

ওবায়দুল কাদের: তারা তো এইটা এখন স্বীকার করে না।

হারুন–অর–রশিদ: না স্বীকার করে না। স্বীকার করবে না। আপনি জিজ্ঞাসা করেন যে স্বীকার করে কি না জিজ্ঞাসা করেন।

ওবায়দুল কাদের: আচ্ছা দেখি আমি দেখি আমি হোম মিনিস্টারের সাথে কথা বলি।

হারুন–অর–রশিদ: স্যার এটা এটা যদি অহন স্যার না করেন তাহলে কিন্তু অর্ডার এহন করে দিবে স্যার। আমি আমি নাই স্যার, ডিবিতে নাই স্যার। অর্ডার করে দিবে। জ্বি জ্বি।

ওবায়দুল কাদের: দেখি।

সূত্র: জাগো নিউজ।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More