জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে ভারী বর্ষণ ও প্রচণ্ড বেগে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। ঝড়টি তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বন্যা ও ভূমিধসের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে। খবর রয়টার্সের।
ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের অংশ ইশুগাকি দ্বীপে ঝড়ের তাণ্ডবে রাস্তায় ধ্বংসাবশেষ উড়তে দেখা গেছে। ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি গাড়ি ছাড়া রাস্তাঘাট ছিল জনশূন্য।
শক্তিশালী এই ঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে, যার কেন্দ্রের কাছে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার। কর্তৃপক্ষ ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে।
পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ইশুগাকিতে শনিবার (১১ জুলাই) সারাদিন সব ধরনের ফ্লাইট ও ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া বিমান সংস্থাগুলো ৩৪৫টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ওকিনাওয়ায় ২৪ হাজারের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
এদিকে তাইওয়ানে টাইফুন বাভির প্রভাবে সরকারি উদ্যোগে পার্বত্য এলাকা থেকে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ঝড়টি সরাসরি তাইওয়ানে আঘাত না হানলেও কিছু এলাকায় প্রায় ১ মিটার (৩ ফুট) বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় প্রাণহানি এড়াতে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
টাইফুনের আশঙ্কায় শনিবার তাইওয়ানের বেশিরভাগ শহর ও কাউন্টিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া ৯২০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও ২৮০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উত্তর–দক্ষিণ হাই–স্পিড রেললাইন চালু থাকলেও সেবার পরিধি কমিয়ে আনা হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) ভোরে টাইফুন বাভি চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ওয়েনজুতে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ১ কোটি জনসংখ্যার এই শহরে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য।