দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ১৯ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
স্পেনের আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হুয়ানমা মোরেনোর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে অন্তত চারজন ব্রিটিশ নাগরিক থাকতে পারেন।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুতের একটি তার ছিঁড়ে পড়ার পর আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত পাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন লাগার কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার তীব্র দাবদাহের মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগালে একাধিক দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী কাজ করছেন এবং হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হুয়ানমা মোরেনো এই ঘটনাকে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে বলেন, আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত, আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
বেদার এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১৫০ জন দমকলকর্মী কাজ করছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে এবং আরেকজনকে দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরও চারজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
দাবানলের কারণে কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ চলতি বছরের গ্রীষ্মে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দাবানল মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরই মধ্যে স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট (ইউএমই) আগুন নিয়ন্ত্রণে অভিযানে যোগ দিয়েছে।