তীব্র গরম বা তাপদাহের সময় সুস্থ থাকাটা মূলত আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। কোনো জটিল নিয়ম না মেনে, দৈনন্দিন জীবনে নিচের সাধারণ বিষয়গুলো খেয়াল রাখলেই এই গরমে শরীরকে ঠান্ডা ও সুস্থ রাখা সম্ভব।
১. শরীর ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখা:
পানি পানের অভ্যাস: তৃষ্ণা না পেলেও কিছুক্ষণ পর পর পানি পান করুন। বাইরে বের হলে অবশ্যই সাথে পানির বোতল রাখুন।
প্রকৃতি থেকে স্বস্তি: অতিরিক্ত ঠান্ডা বা বরফ পানি না খেয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বা মাটির কলসির পানি খেতে পারেন। ঘরে তৈরি লেবুর শরবত বা ডাবের পানি এ সময় শরীরের ক্লান্তি দূর করতে দারুণ কাজ করে।
বারবার হাত–মুখ ধোয়া: কাজের ফাঁকে ফাঁকে চোখে–মুখে ও ঘাড়ে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। বাইরে থেকে ফিরে বা বেশি গরম লাগলে স্বাভাবিক পানিতে গোসল করে নিন।
২. পোশাক ও জুতো বাছাই
হালকা রঙের পোশাক: কালো বা গাঢ় রঙের কাপড় রোদ ও তাপ বেশি শোষণ করে। তাই গরমে সাদা, হালকা সুতি বা লিনেনের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। এতে শরীরে বাতাস চলাচল করতে পারে।
আরামদায়ক জুতো: ভারী কেডস বা বুট জুতো এড়িয়ে চলুন। পা ঢাকা জুতোয় ঘাম জমে চর্মরোগ হতে পারে, তাই বাতাস চলাচল করে এমন স্যান্ডেল বা চটি জুতো ব্যবহার করুন।
৩. রোদ থেকে নিজেকে বাঁচানো
ছাতা ও চশমা: রোদে বের হওয়ার সময় ছাতা, চশমা (সানগ্লাস) কিংবা টুপি ব্যবহার করা অভ্যাসে পরিণত করুন।
সময় বুঝে বের হওয়া: খুব বেশি দরকার না হলে দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে না যাওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ এই সময়ে রোদের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে।
৪. ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখা
জানালা ও পর্দার ব্যবহার: দিনের বেলা যেদিকের জানালায় সরাসরি রোদ আসে, সেদিকের জানালা ও ভারী পর্দা বন্ধ রাখুন। বিকেল বা সন্ধ্যার পর বাইরের আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হলে জানালা খুলে দিন, যাতে ঘরের গরম বাতাস বের হয়ে যায়।
গাছপালা ও বাতাস: ঘরের ভেতর বা বারান্দায় ছোট ছোট ইনডোর প্ল্যান্ট (যেমন: মানিপ্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা) রাখতে পারেন, এগুলো ঘরের পরিবেশ সতেজ রাখে। এছাড়া ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
৫. খাবার–দাবারে সাধারণ পরিবর্তন
সহজপাচ্য খাবার: এই সময়ে অতিরিক্ত তেল–মসলাযুক্ত, ভাজা পোড়া বা রিচ ফুড সহজে হজম হতে চায় না এবং শরীর আরও গরম করে তোলে। তাই পাতলা ঝোল, সবজি, ডাল ও ভর্তার মতো হালকা খাবার খান।
ফলমূল খাওয়া: তরমুজ, শসা, বাঙি, আনারস বা পাকা পেঁপের মতো পানিজাতীয় ফল বেশি করে খান। এগুলো শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে।
তীব্র গরমে সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় উপায় হলো শরীরকে অতিরিক্ত খাটুনি থেকে বিরত রাখা এবং শরীর সামান্য খারাপ লাগলেই ছায়াযুক্ত স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়া।
মাসউদ/এসএ