পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক জুতা নির্বাচন করা এখন আধুনিক ফ্যাশনের অন্যতম প্রধান শর্ত। এক সময় জুতা কেবলই প্রয়োজনের বস্তু থাকলেও, সময়ের বিবর্তনে এতে এসেছে নকশা ও ব্যবহারের বিপুল বৈচিত্র্য।
ফর্মাল মিটিং, ক্যাজুয়াল আড্ডা কিংবা খেলাধুলা—সব জায়গার জন্যই রয়েছে আলাদা আলাদা নাম ও ডিজাইনের ফুটওয়্যার। কিন্তু নাম না জানার কারণে অনেক সময় আমরা সঠিক জায়গায় সঠিক জুতাটি বেছে নিতে ভুল করি।
আসুন জেনে নেওয়া যাক বহুল ব্যবহৃত কিছু ফুটওয়্যারের আসল নাম ও ব্যবহার।
১. ফর্মাল ও সেমি–ফর্মাল ফুটওয়্যার
অক্সফোর্ড (Oxford):
জুতোর দুনিয়ায় সবচেয়ে মার্জিত এবং ক্ল্যাসিক ফর্মাল জুতা বলা হয় এটিকে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘ক্লোজড লেসিং‘ (Closed Lacing) সিস্টেম, অর্থাৎ এর ফিতে বাঁধার অংশটি জুতোর ভেতরের দিকে চামড়ার সাথে সেলাই করা থাকে। এটি সাধারণত স্যুট বা ব্লেজারের সাথে সবচেয়ে ভালো মানায়।
ডার্বি (Derby):
দেখতে অনেকটা অক্সফোর্ডের মতো হলেও এর লেসিং সিস্টেমটি ‘ওপেন‘ (Open Lacing)। অর্থাৎ, ফিতে বাঁধার দুই পাশের চামড়াটি আলগা থাকে। অক্সফোর্ডের চেয়ে এটি কিছুটা কম ফর্মাল এবং আরামদায়ক।
ব্রগ (Brogue):
যেকোনো জুতার চামড়ায় যদি ছোট ছোট আলংকারিক ছিদ্র বা ডিজাইন করা থাকে, তবে তাকে ‘ব্রগ‘ বলা হয়। এটি অক্সফোর্ড বা ডার্বি—যেকোনো ডিজাইনের ওপর হতে পারে।
মঙ্ক স্ট্র্যাপ (Monk Strap):
এই জুতায় কোনো ফিতে থাকে না। তার বদলে এক বা একাধিক মেটালের বাকল (Buckle) এবং স্ট্র্যাপ দিয়ে জুতোটি আটকাতে হয়। ফর্মাল ও ক্যাজুয়াল—উভয় লুকেরই এক দারুণ মিশ্রণ এটি।
২. ক্যাজুয়াল ফুটওয়্যার
লোফার (Loafer):
ফিতে বা বাকলহীন, সহজে পায়ে গলিয়ে নেওয়া যায় এমন জুতাই হলো লোফার। এটি মূলত ক্যাজুয়াল বা সেমি–ফর্মাল পোশাকের সাথে পরা হয়। এর গোড়ালির অংশটি নিচু থাকে।
মোকাসিন (Moccasin):
এটি দেখতে অনেকটা লোফারের মতোই, তবে এটি সাধারণত নরম চামড়া বা সুয়েড (Suede) দিয়ে তৈরি হয় এবং এর সোলে কোনো বাড়তি হিল থাকে না। আদিবাসী আমেরিকানদের ঐতিহ্যবাহী জুতো থেকে এর উৎপত্তি।
এসপাড্রিল (Espadrille):
গরমকালের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এই জুতার সোল বা তলাটি তৈরি হয় পাটের দড়ি (Jute rope) দিয়ে এবং উপরের অংশটি থাকে ক্যানভাস বা কাপড়ের।
৩. স্ট্রিটওয়্যার
স্নিকার্স (Sneakers):
তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে পছন্দের ফুটওয়্যার। রাবার সোলের এই জুতোগুলো হাঁটার সময় একদম শব্দ করে না বলেই এর নাম হয়েছে ‘স্নিকার্স‘ (Sneak অর্থ চুপিচুপি হাঁটা)। খেলাধুলা থেকে শুরু করে জিন্স–টিশার্টের সাথে ক্যাজুয়াল লুকে এটি এখন বিশ্বজুড়ে সেরা।
ক্যানভাস শু (Canvas Shoes):
জুতার উপরের অংশটি যখন চামড়ার বদলে মোটা কাপড়ের বা ক্যানভাসের হয়, তখন তাকে ক্যানভাস শু বলে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো বিখ্যাত ‘কনভার্স‘ (Converse) জুতো।
৪. বুটস
চেলসি বুট (Chelsea Boots):
গোড়ালি পর্যন্ত উঁচু এই বুটগুলোতে কোনো ফিতে থাকে না। জুতার দুই পাশে ইলাস্টিক ব্যান্ড থাকে, যা টেনে সহজে পায়ে পরা যায়। ষাটের দশকে বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড ‘দ্য বিটলস‘ এই জুতো পরে এটিকে তুমুল জনপ্রিয় করে তোলে।
চাক্কা বুট (Chukka Boots):
চামড়া বা সুয়েড কাপড়ের তৈরি গোড়ালি সমান উঁচু বুট, যাতে মাত্র দুই বা তিনটি ফিতে বাঁধার ঘর থাকে। এটি ক্যাজুয়াল ও সেমি–ফর্মাল দুই ভাবেই পরা যায়।
৫. স্যান্ডেল ও ফ্ল্যাটস
স্লাইডার্স (Sliders):
ঘরের ভেতরে বা বাইরে সহজে পায়ে গলিয়ে নেওয়ার জন্য এক ফিতার যে রাবার বা প্লাস্টিকের চটি আমরা পরি, সেগুলোকে ফ্যাশনের ভাষায় স্লাইডার্স বলা হয়।
ফ্লিপ–ফ্লপ (Flip-Flops):
আমাদের অতি পরিচিত ‘থং স্যান্ডেল‘ বা দুই ফিতার চটি জুতা, যা সাধারণত আমরা বাথরুমে বা ঘরের আশেপাশে ব্যবহার করি। হাঁটার সময় ‘ফ্লিপ–ফ্লপ‘ শব্দ হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে এর এই নামকরণ।
জুতো কেবল আপনার পায়ের সুরক্ষাই নিশ্চিত করে না, এটি আপনার রুচিবোধের পরিচয় দেয়। তাই কোন পোশাকের সাথে কোন জুতা মানানসই, এবং জুতার সঠিক নাম ও ব্যবহার জানা থাকলে ব্যক্তিত্বকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
মাসউদ/এসএ