কম দামে নতুন পোশাক কেনার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। দ্রুত এবং সস্তায় কেনা এসব পোশাক অনেক সময় একবার বা অল্প কয়েকবার ব্যবহার করার পরই ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘ফাস্ট ফ্যাশন’ শুধু অর্থের অপচয় নয়, বরং পরিবেশ দূষণেরও বড় কারণ।
পরিবেশবিদদের মতে, এসব পোশাক উৎপাদনে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ, পানি দূষণ এবং বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়, যা পরিবেশের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে।
এই সমস্যা কমাতে টেকসই ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন।
১. কম পোশাক কেনা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হলো কম পোশাক কেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বিশেষ অনুষ্ঠান বা আলাদা আলাদা প্রয়োজনের জন্য নতুন পোশাক কেনার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আমাদের আলমারিতে থাকা পোশাকই অনেক সময় যথেষ্ট। নতুন কেনাকাটার আনন্দ সাময়িক হলেও পরে তা অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে।
২. সেকেন্ড হ্যান্ড পোশাক ব্যবহার
পুরোনো বা ব্যবহৃত পোশাক কেনাকে উৎসাহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে নতুন উৎপাদনের চাপ কমে এবং পরিবেশও রক্ষা পায়।
অনলাইন অ্যাপ এবং চ্যারিটি শপের মাধ্যমে সহজেই ভালো মানের ব্যবহৃত পোশাক পাওয়া যায়, যা অনেক সময় নতুন পোশাকের চেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময় হয়।
৩. প্রাকৃতিক উপাদান বেছে নেওয়া
সিনথেটিক কাপড়ের ব্যবহার কমিয়ে তুলা, লিনেন বা প্রাকৃতিক তন্তুর পোশাক ব্যবহার করা উচিত।
এছাড়া ঠান্ডা পানিতে কাপড় ধোয়া এবং সঠিকভাবে যত্ন নেয়া কাপড়কে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। সিনথেটিক কাপড় ধোয়ার সময় বিশেষ ব্যাগ ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষণ কিছুটা কমানো সম্ভব।
৪. কেনার আগে যাচাই করা
নতুন পোশাক কেনার আগে ব্র্যান্ড ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা জরুরি। কোথায় এবং কীভাবে পোশাক তৈরি হয়েছে, তা যাচাই করলে ন্যায্য শ্রম ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতন ভোক্তা হওয়াই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ।
টেকসই ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমানো এবং সচেতনভাবে পোশাক নির্বাচন করা শুধু ব্যক্তিগত সাশ্রয় নয়, বরং পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
এসএ