রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬
রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬

বাগেরহাটে এক বাগানেই ৫০ জাতের আম

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

দক্ষিণাঞ্চলের নোনা পানির এলাকা, যেখানে অনেক ফসল চাষই চ্যালেঞ্জ, সেখানে বিদেশি আম চাষ করে ভাগ্য বদলেছেন আবু বক্কর শেখ নামের এক কৃষি উদ্যোক্তা। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৫০ প্রজাতির দেশিবিদেশি আম চাষ করে বছরে লাখ টাকা আয় করছেন তিনি। তার এই সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরাও।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নের আলতি ব্রুজবারিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু বক্কর শেখ পেশায় একজন কৃষি উদ্যোক্তা ও নার্সারি ব্যবসায়ী। প্রায় ১০ বছর আগে স্থানীয়দের পরামর্শে বিদেশি আম চাষ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে প্রায় ৪ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন একটি সমৃদ্ধ আমবাগান, যেখানে দেশিবিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫০টি জাতের আম রয়েছে।

বিদেশি আমের মধ্যে চিয়াংমাই, কিং অব চাকাপাত, মিয়াজাকি, ব্যানানা ম্যাংগো, ব্ল্যাক স্টোন, রেড পালমার, ব্রুনাই কিংসহ নানা জাতের আম রয়েছে। এছাড়া দেশি আমের মধ্যে গোপালভোগ, হিমসাগরের মতো জনপ্রিয় জাতও রয়েছে। বারি১১ জাতের আমও রয়েছে তার বাগানে, যা বছরজুড়ে ফল দেয়। স্বাদ ও গুণে এসব আম সব শ্রেণির ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বাগানে গেলে চোখে পড়ে আমের ভারে নুয়ে পড়া গাছ, যা সহজেই মন কাড়ে আমপ্রেমী দর্শনার্থীদের।

উদ্যোক্তা আবু বক্কর শেখ বলেন, বর্তমানে আমার ৪ বিঘা জমিতে দেশিবিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫০০টি আমগাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছ কিনতে খরচ হয়েছে ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। আমার বাগানে সবচেয়ে বেশি রয়েছে থাই জাতের আমগাছ। এ বছর প্রতিটি গাছ থেকে ১৫ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত আম উৎপাদন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর বাগানের আম সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। দেশি আমের তুলনায় বিদেশি আমে লাভ বেশি। কারণ দেশি আমের মৌসুম শেষ হওয়ার পর বিদেশি আম পাকে, তখন বাজারে চাহিদা বেশি থাকে। এছাড়া আমার নার্সারিতে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার চারা তৈরি হয়েছে এবং আরও ৪ থেকে ৫ হাজার চারা উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনেকেই আমার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে বাগান করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

বাগান পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা মো. বাবুল শেখ বলেন, এ বছর বাগানে ভালোই ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে বারি১১ আম পাকা শুরু হয়েছে। অনেকেই সরাসরি বাগান থেকে আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। চাহিদা থাকায় আমরা চারাও উৎপাদন করছি।

জেলার কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা কবির শেখ বলেন, বক্কর ভাইয়ের আমবাগান দেখে আমিও বিদেশি আম গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এ কারণে বিদেশি আমগাছের কলম চারা সংগ্রহের জন্য বাগানে এসেছি। ইতোমধ্যে ৩০টি চারা সংগ্রহ করেছি।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, চিয়াংমাই ও চাকাপাত থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় আমের জাত। দেশে এসব জাত ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে পাকার কারণে এসব আম বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়, যা চাষিদের জন্য লাভজনক।

তিনি আরও বলেন, আমবাগানে পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধে কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া নতুন উদ্যোক্তাদেরও আমরা এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছি।

মামুন আহমেদ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More