রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬
রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি দুদেশের নেতাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈঠকের উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় ২১টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে চুক্তি করতে ওয়াশিংটন যখন তৎপরতা বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হল। তেহরান আগে থেকেই শর্ত দিয়ে আসছিল যে লেবাননে যুদ্ধবিরতি যেকোনো চুক্তির অংশ হতে হবে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। পরে ২ মার্চ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা করলে লেবাননও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

এরপর থেকে লেবাননে ইসরাইলের হামলায় দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি স্থলবাহিনী দেশটির দক্ষিণাঞ্চলেও প্রবেশ করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ‘চমৎকার’ ফোনালাপের পর এই চুক্তিটি হয়েছে।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালনেটওয়ার্কে আরও লেখেন, দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু করতে সম্মত হয়েছেন।

পরে তিনি জানান, নেতানিয়াহু এবং আউন ‘আগামী চার বা পাঁচ দিনের মধ্যে’ হোয়াইট হাউস সফর করবেন বলে আশা করছেন। এটিই হবে ইসরাইল ও লেবাননের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক।

ইসরাইলি হাসপাতালের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি শুরুর কিছুক্ষণ আগে তিনজন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার ভোরে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের গাজিয়া শহরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বৈরুতের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির’ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ পূর্বশর্ত হিসেবেই থাকবে।

ট্রাম্প বলেছেন, হিজবুল্লাহকেও এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবী, এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে লেবানন নিজেই ইরানসমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীটিটিকে নির্মূলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। খুব খুশি

বৈরুতের বাসিন্দা ৬১ বছর বয়সী গৃহিণী জামাল শেহাব এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধবিরতি হওয়ায় আমরা খুব খুশি, কারণ আমরা যুদ্ধবিগ্রহে ক্লান্ত; এখন নিরাপত্তা ও শান্তি চাই।’

বৈরুতের একটি ক্যাফেতে বসে আইনজীবী তারেক বু খলিল এএফপিকে বলেন, ‘সবাই জানে ট্রাম্পের কথার কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমরা এটাও জানি যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের চাপ এবং দক্ষিণ লেবাননে নেতানিয়াহু ও শত্রুপক্ষের সেনাবাহিনীর ভুলের ফলেই তারা যুদ্ধবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছে।’

লাস ভেগাস সফরের উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা বলেন।

এএফপির এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। আজ দেশ দুটি যুদ্ধবিরতি করতে যাচ্ছে, এবং এর মধ্যে হিজবুল্লাহও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’

পরে ট্রাম্প বলেন, লেবানন ‘হিজবুল্লাহর বিষয়টি সামলে নেবে’ এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে তেহরানসমর্থিত গোষ্ঠটি এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।

হিজবুল্লাহর এক আইনপ্রণেতা এএফপিকে বলেন, ইসরাইল হামলা বন্ধ করলে তারা ‘সতর্কতার সঙ্গে’ যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।

ইব্রাহিম আলমুসাউই লেবাননের পক্ষে চাপ প্রয়োগের জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ইরান এই যুদ্ধবিরতিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার সমতুল্য মনে না করলে এই যুদ্ধবিরতি কখনোই সম্ভব হতো না।’

নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, তবে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তে ১০ কিলোমিটার (ছয় মাইল) ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বজায় রাখবে।

তিনি আরও জানান, যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরায়েলের দুটি শর্ত রয়েছে, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং ‘শক্তির ভিত্তিতে’ একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More