টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে লাল–সবুজের তরুণরা।
খেলায় নির্ধারিত সময়ের মতো টাইব্রেকারেও অনেক নাটকীয়তা হয়েছে। ভারতের অধিনায়ক প্রথমে শট নেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন তা ঠেকিয়ে দেন। মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন।
চতুর্থ শট নিতে এগিয়ে এলেন বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাকসাম। ঠিক সেই মুহূর্তে নাটকীয় দৃশ্য—ভারতের গোলরক্ষক সুরজ সিং হঠাৎই ব্যথায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাতে অবশ্য খেলার ছন্দে খানিকটা বিঘ্ন ঘটে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মনোযোগেও পড়ে প্রভাব। চিকিৎসা শেষে আবারও পোস্টে দাঁড়ান সুরজ। তখন চার শট শেষে দুই দলের স্কোরলাইন সমান ৩–৩।
দুই দলের শেষ শটটি তখন খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের হয়ে এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি গোল করা ফুটবলারের নেওয়া শট গোলপোস্টের অনেক উপর দিয়ে যায়।
বাংলাদেশ শেষ শটে গোল করলেই চ্যাম্পিয়ন—এমন সমীকরণে শেষ শট নেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান রোনান সুলিভান। অনেক চাপের মধ্যেও তিনি শট পোস্টে রেখে গোল করেন। মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সমর্থকদের উল্লাসে ফেটে পড়ে। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয় সাফ অনূর্ধ্ব–২০ টুর্নামেন্টের।
এর আগে, ২০২৪ সালের আসরেও শিরোপা জিতেছিল লাল–সবুজের দল। শুক্রবার মালদ্বীপের মালে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি।
সব বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরি মিলিয়ে এবার চতুর্থবারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও ভারত। এর আগে ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব–১৮, ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব–২০ এবং ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব–১৯ ফাইনালে প্রতিবারই হারের হতাশা সঙ্গী হয়েছিল বাংলাদেশের। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচল—প্রথমবারের মতো বয়সভিত্তিক আসরের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের অন্যতম কারিগর গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন। পুরো আসরে হজম করেছেন মাত্র এক গোল। তাতে টুর্নামেন্টে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার উঠেছে তার হাতে।