শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬
শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬

গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

সংসারের হাল ধরতে একসময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহপরিচারিকার কাজ করেছেন। একমাত্র ছেলের জন্য দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার সেই অতি সাধারণ ঘরের বধূ কলিতা মাজি এবার রাজ্যের নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

গত সোমবার (১ জুন) লোক ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভার বাকি ৩৫ জন সদস্যের সঙ্গে আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাজিও শপথ গ্রহণ করেন। কলিতার স্বামী পেশায় একজন কলের মিস্ত্রি। স্বামী ও একমাত্র ছেলে পার্থকে নিয়ে তার ছোট সংসার। এ বছরই তার ছেলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে।

সংসারের অভাবঅনটন দূর করতে এবং বাড়তি কিছু উপার্জনের জন্য ২০১১ সাল থেকে গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করেন কলিতা। তবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা ছিল দীর্ঘদিনের। সেই ইচ্ছা থেকেই রাজনীতিতে পা রাখা।

সাত বছরের মতো সক্রিয় রাজনীতি করার পর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাকে প্রথমবার বিজেপি থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল। সেবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে পরাজিত হন কলিতা। তবে পরাজয়ে দমে না গিয়ে মাঠেই ছিলেন তিনি। যার পুরস্কার মেলে এবার। দল তার ওপর ভরসা রেখে আউশগ্রাম আসন থেকে আবারও টিকিট দেয়।

নির্বাচনি প্রচারে অর্থবল কিংবা পেশিশক্তির দাপটের বিপরীতে কলিতার মূল হাতিয়ার ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি নিবিড় যোগাযোগ। শেষপর্যন্ত সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে আউশগ্রামের মানুষের রায়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কলিতা মাজি বলেন, আমি গরিব পরিবারের একজন বধূ। তাই গরিব মানুষের কষ্ট আমি খুব ভালো করেই বুঝি। বিধায়ক হয়েছি, এখন প্রতিমন্ত্রীও হয়েছি, কিন্তু আমি সাধারণ মানুষ হিসেবেই জীবন কাটাতে চাই। কোনো আতিশয্য আমি চাই না। আউশগ্রামের মানুষের উন্নয়নের জন্য নিজেকে সঁপে দিতে চাই।

কলিতার এই অভূতপূর্ব উত্থানে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে গুসকরা এলাকায়। বিশেষ করে যে পরিবারে তিনি দীর্ঘদিন গৃহপরিচারিকার কাজ করেছেন, সেই পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত। পরিবারের প্রবীণ সদস্য প্লাটিলাল পাত্র বলেন, ২০১১ সাল থেকে কলিতা আমাদের বাড়িতে কাজ করত। আগে আমাকে কাকা বলত, কিন্তু আমাদের মেয়ে মারা যাওয়ার পর ও আমাকে ‘বাবা’ বলে ডাকতে শুরু করে। ও শুধু আমাদের মেয়েই নয়, বরং আমাদের অভিভাবকের মতো আগলে রেখেছে। ও আজ রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আমরা কতটা খুশি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। ও সবসময় মানুষের পাশে থেকে ভালো কাজ করুক, এটাই আমাদের প্রার্থনা। সূত্র : আনন্দবাজার।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More