চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন মানবাধিকার কর্মী নাভেনথাম নাভি পিল্লাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে তার নাম ঘোষণা করা হয়।
নোবেল কমিটি জানায়, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখার জন্য দক্ষিণ আফিকার সাবেক এই আইনবিদকে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার দেয়া হবে।
এক বিবৃতিতে কমিটি জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পিল্লাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
নাভানেথাম নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকান আইনবিদ। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান পিল্লাই ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ আদালতের প্রথম অ–শ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক এবং রুয়ান্ডার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
২০১৫ সালে পিল্লাই মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্তর্জাতিক কমিশনের ১৬তম কমিশনার হন। তিনি রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স কর্তৃক চালু করা তথ্য ও গণতন্ত্র কমিশনের ২৫ জন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির একজন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন পিল্লাই। সেখানে তিনি নাটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে বিএ এবং ১৯৬৫ সালে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। একজন অ্যাটর্নি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন পিল্লাই। ১৯৯৫ সালে বার অ্যাসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক পিল্লাইকে দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ আদালতে মনোনীত ও নিশ্চিত করা হয়।
এই মানবাধিকার কর্মী বর্তমানে দ্য গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতের একজন অ্যাড হক বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও, তিনি জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের চেয়ারপার্সন, মাদ্রিদে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্তর্জাতিক কমিশনের সভাপতি, আন্তর্জাতিক নুরেমবার্গ নীতি একাডেমির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি এবং কোরিয়ার গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রে আটক সংক্রান্ত আধা–বিচারিক তদন্তের চেয়ারপার্সন।
উল্লেখ্য, নোবেল কমিটি এ বছরের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য ২৮৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পেয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, সুদানের জরুরি সেবাদানকারী দল, ইউক্রেনে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও সংগঠন এবং দুটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক আদালত।
এসএ