মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্দেশ্যে ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সাত দিনের বিশেষ রোডম্যাপ বা রূপরেখা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় আর কোনো আস্থা বা বিশ্বাস নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্ররা নতুন করে কোনো হামলা চালালে তার অত্যন্ত কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এর আগে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে পরের দিন একই মঞ্চে দেওয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যতই চাপ সৃষ্টি করুক না কেন, তারা কিছুতেই ওয়াশিংটনের কাছে মাথা নত করবেন না। পাশাপাশি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রশাসনকে কড়া সতর্কবার্তাও দেন তিনি।
এমন চরম উত্তেজনার মধ্যেই যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং পরমাণু ইস্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সাত দিনের একটি রূপরেখা প্রস্তাব করে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকির নিউ ইয়র্ক সফরকালে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রস্তাবটি জমা দেওয়ার মাত্র একদিনের মাথাতেই তা প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানি নীতিনির্ধারক ও সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরপরই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে পারে। বারবার কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার পরও দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও আক্রমণের ইতিহাস থাকায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় আর কোনো ভরসা পাচ্ছে না তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তবে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সব সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোই হবে তেহরানের পাল্টা আঘাতের মূল লক্ষ্যবস্তু।