
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ: ট্রাম্পের সামনে বড় বিপদ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা নির্ধারণ করবে এই নির্বাচন।
ডেমোক্রেটরা যদি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছর তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচল অবস্থার মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেস দুই কক্ষ বিশিষ্ট। উচ্চকক্ষ হলো সিনেট আর নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ। প্রতিনিধি পরিষদের মোট আসন ৪৩৫টি। বর্তমানে এখানে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি এবং বিরোধী দল ডেমোক্রেটদের আসন ২১৪টি।
সিনেটে মোট আসন ১০০টি। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের রয়েছে ৫৩টি, আর বিরোধী দল ডেমোক্রেটদের আসন সংখ্যা ৪৫। এর সাথে দুজন স্বতন্ত্র সিনেট সদস্য ডেমোক্রেটদের সাথে ককাস করেছেন বা জোটবদ্ধ হয়েছেন, ফলে ডেমোক্রেটদের আসন সংখ্যা মোট ৪৭।
একজন সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন ৬ বছরের জন্য। প্রতি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় সিনেটের নির্বাচন (৩৩, ৩৩, ৩৪—এভাবেই তিন দফায় ১০০ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়)। সেই হিসেবে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৩৩টি আসনের নির্বাচন।
এর সাথে যুক্ত হচ্ছে ফ্লোরিডা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যের শূন্য আসন। এই ৩৫টির মধ্যে ২০টি বর্তমানে রিপাবলিকানদের দখলে এবং ১৩টিতে রয়েছে ডেমোক্রেটরা। মেইন, ওহাইও, টেক্সাস, আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস—এই অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডেমোক্রেটদের জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এর পাশাপাশি উত্তর ক্যারোলাইনা এবং মিশিগানেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ যদি ডেমোক্রেটদের হাতে চলে যায়, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছর বড় ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের মুখোমুখি হতে পারেন। ফেডারেল কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পছন্দ করা রক্ষণশীল প্রার্থীদের সরাসরি ব্লক করতে পারবেন ডেমোক্রেট সেনেটররা।
এছাড়া নতুন কোনো মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত বা গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগেও সিনেটের অনুমোদন পেতে বাধা দিতে পারবেন ডেমোক্রেটরা। অভিবাসন নীতি, বাণিজ্য শুল্ক এবং বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা বন্ধ বা সংকুচিত করতে ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্পের পরিবার, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের আর্থিক লেনদেন এবং তার জামাতা জারেড কুশনারের আন্তর্জাতিক ব্যবসার ওপরেও সিনেট কমিটিগুলো তদন্ত চালাতে পারে। বাজেট পাস বা বড় কোনো করছাড়ের মতো সিদ্ধান্ত আটকে যেতে পারে।
তৃতীয়বারের মতো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে ডেমোক্রেটরা। তবে সিনেটে কাউকে পদ থেকে চূড়ান্তভাবে সরাতে দুই–তৃতীয়াংশ বা ৬৭ ভোটের প্রয়োজন হয়।
অবশ্য সিনেটে পাস হওয়া যেকোনো আইন বাতিল করতে পারবেন প্রেসিডেন্ট; তার জন্য প্রেসিডেন্টের রয়েছে ভেটো পাওয়ার। এটি ব্যবহার করে হয়তো ডেমোক্রেটদের আক্রমণ ঠেকাতে পারবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, কিন্তু সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্রেটদের হাতে গেলে সামগ্রিকভাবে ক্ষমতা চর্চায় বেশ বেগ পেতে হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।








