কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এরশাদ মিয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) উপজেলার গাজীরহাট–শ্রীকাইল সড়কের বলিঘর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষকের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, “শিক্ষকরা সমাজের মানুষ গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষকের ওপর হামলা মানে শুধু একজন ব্যক্তির ওপর নয়, বরং পুরো জাতির ওপর আঘাত হানা। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় ভবিষ্যতে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম জুয়েল, কামাল হোসেন সরকার, ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, ইউপি সদস্য আতাউর রহমান রিপন এবং ভুক্তভোগী শিক্ষক এরশাদ মিয়া। তারা প্রত্যেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মমিন মিয়া, এনামুল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, অলেক মিয়া, উজ্জল মিয়া, আবুল হাসান, শফিকুল ইসলাম শফু, শরীফ মিয়া, ফয়েজ আলীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ রাতে মুরাদনগর উপজেলার রাজাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এরশাদ মিয়ার ওপর স্থানীয় কাইয়ুম মোলার নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি আহত হন। পরবর্তীতে তিনি বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।