শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সমস্যা সমাধানে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিনিয়োগকারীরা। তাদের দাবি, এই বিধিমালা কার্যকর হলে দেশের ক্লোজড-অ্যান্ড (মেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ড খাতসহ সামগ্রিক পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ অবস্থায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্য ফ্রন্ট আয়োজিত এক সেমিনারে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সেমিনারে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংগঠনের প্রতিনিধি, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে সংগঠনের সভাপতি ম. জহুরুল হক বলেন, গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান আশ্বাস দিলেও বাস্তবে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বন্ধ ও রূপান্তরের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তার অভিযোগ, কমিশনের একটি অংশ বাজারসংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে বিধিমালাটি কার্যকর করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কয়েকজন বিনিয়োগকারী আদালতে বিধিমালার আওতায় বিদ্যমান মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের অবসায়ন ও রূপান্তর প্রক্রিয়া স্থগিতের আবেদন করলে আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। তবে পরে বিএসইসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। এতে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড আইন-২০২৫-এর ৬২(২) ধারা অনুযায়ী বাজারমূল্য বা লেনদেন মূল্যের সঙ্গে প্রকৃত সম্পদ মূল্যের তুলনা করে মেয়াদি ফান্ড অবসায়ন বা বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের যে বিধান রাখা হয়েছে, তার কোনো আন্তর্জাতিক নজির নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারমূল্য কখনোই সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। প্রকৃত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন হওয়া উচিত ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ও ফেস ভ্যালুর ভিত্তিতে। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে এবং ভালো ও দুর্বল ফান্ড আলাদা করা সম্ভব হবে।

জহুরুল হক সতর্ক করে বলেন, মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে অবসায়ন বা ওপেন-অ্যান্ড ফান্ডে রূপান্তর করা হলে বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের ক্লোজড-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর অধীনে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে, যা পুঁজিবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

সেমিনারে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, মেয়াদি ফান্ডের সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হলে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার শেয়ার বাজারে বিক্রি করতে হবে। এতে সূচক পতনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। তার মতে, আতঙ্কজনিত বিক্রি শুরু হলে মোট বিক্রির চাপ ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ ও মার্জিন বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনা কিংবা বাতিল করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে আলোচনা হওয়া জরুরি।

সেমিনারে বিনিয়োগকারী ঐক্য ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক গনেশ রায় বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড ও সম্পদ ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট একাই তাদের ফান্ড শুরুর পর থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বেশি লভ্যাংশ প্রদান করেছে, যা এ খাতের সক্ষমতার প্রমাণ।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, ক্লোজড-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাজারে স্থিতিশীল বিনিয়োগ কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। তাই বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় বিএসইসির সাম্প্রতিক নির্দেশনা বাতিল এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানান তারা।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More